সাময়িকভাবে বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি গঠন  গোপালগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ, শান্তির দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মিরাজ হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। 


এদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষকককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ আগষ্টের মধ্যে কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে।


ওই শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তার ৭ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে ওই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিরাজ হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। গত ৬ আগষ্ট অন্যান্য দিনের মতো সকালে প্রাইভেট পড়া শেষে স্কুলে ক্লাসে যাবার আগে ওই শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী চেষ্টা করেন শিক্ষক মিরাজ। এ সময় ওই শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।


পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবগত করেন। তারা আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।


এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আজ রবিবার অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীগণ। এ সময় তারা উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান এবং প্লাকার্ড প্রদর্শন করে। 


এরপর দুপুর একটার দিকে তারা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র তুলে দেয়া হয় কর্মকর্তার কাছে।


এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষকককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ আগষ্টের মধ্যে কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।


ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছে। স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক অনুপস্থিত। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক কমলেশ বিশ্বাসকে পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের উপর অত্যাচারের ঘটনা শুনে আমি প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু পরবর্তীতে অন্যান্য আরো অভিভাবকগণ একসাথে এসে জানতে পারি উক্ত শিক্ষক মিরাজ হোসেন এর আগেও বহুবার অনেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সর্বশেষ ছাত্রীকে যৌন হয়রানের দায়ে তাকে জেল কারাগারে পাঠানো হয়। জেলখানা থেকে বের হয়ে সে আবার একই কাজ শুরু করেছে। আমরা এখন তার পদত্যাগ চাই সে যেন আর কোন স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পেতে পারে।


নাম প্রকাশের না শর্তে অনেক অভিভাবকগণ জানান, পূর্বে উক্ত শিক্ষক একই বিষয়কে কেন্দ্র করে সাময়িক বরখাস্ত ও কয়েকবার জেল খেটেও তার এখনো শিক্ষা হয়নি। এর ফলে অনেক অভিভাবক অত্র প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। সকলের দাবী করপাড়া ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিরাজ হোসেনরক বহিষ্কার পূর্বক চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হোক।


এ বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক মিরাজ হোসেনের মোবাইল ফোনে (০১৭২৪-৫৫৬২৯৬)যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।


এ ব্যাপারে সহকারি প্রধান শিক্ষক পরিমল পান্ডের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইতিপূর্বেও তিনি এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে। আমরা আমাদের সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করণীয় তা করব। উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরাও সুপারিশ করেছি বলেও জানান তিনি। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?