- প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৮ পিএম
দশমিনায় কোস্টের আয়োজনে নারী দিবসে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার :
শুধুমাত্র দিবস পালন নয়, বরং এ উপলক্ষকে একটি শক্তিশালী কর্মযজ্ঞে পরিণত করে সরকার, সমাজ ও ব্যক্তি মিলিতভাবে প্রতিটি নারী, কিশোরী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও তীব্র সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষত চরাঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে জীবন মান উন্নয়ন করতে হবে। বিকল্প আয় সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পরিবার ও সমাজে বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতন এবং সকল ধরনের সহিংসতা রোধে প্রশাষন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর আয়োজনে, আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ-এ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ সকল দাবিসমূহ তুলে ধরেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর এম. এ. হাসান এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, জলবায়ু ফোরামের সভাপিত পিএম রায়হান বাদল, নারী নেত্রী নিলুফার রউফ, তাহমিনা আক্তার, কিশোরি শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তামান্না আক্তার, ছাত্রী কামনা বেগম, নাদিরা, আক্তার, কোস্ট সিসিআর প্রকল্পের আতিকুর রহমান, সহ অনেকেই। মানববন্ধনে কিশোরী, নারী নেত্রী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কোস্ট ফাউন্ডশেন-এর এম এ হাসান বলনে, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করলেই হবে না; বরং কার্যকর নীতি, শক্তিশালী আইন প্রয়োগ ও সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ঝুঁকিগ্রস্থ পিছিয়ে থাকা উপকূলীয় নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে, একটি সমতার, নিরাপত্তার এবং মর্যাদার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি পাশবিক নির্যাতন আজও আমাদের সমাজের এক দুঃখজনক বাস্তবতা। এই নির্যাতন শুধু শারীরিক কষ্ট সৃষ্টি করে না, বরং ভুক্তভোগীদের মানসিক ও সামাজিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু সুরক্ষিত থাকবে এবং তাদের অধিকার পূর্ণভাবে স্বীকৃত হবে।
জলবায়ু ফোরামের সভাপিত, পিএম রায়হান বাদল বলেন, নানাবিধ দুর্যোগ (নদীভাঙ্গন, বন্যা, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততা ইত্যাদি) এর কারণে শষ্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ পারিবারগুলো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, যে কারনে নারী, কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা প্রকট হচ্ছে। সরকারকে এই দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
নারী নেত্রী নিলুফা রউফ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শিক্ষার প্রসার, আইনগত সহায়তা এবং সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন। এই প্রচেষ্ট এককভাবে সম্ভব নয়; এতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নারী নেত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, সকল প্রকার জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রচার ও প্রচারণা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিগুলো কার্যকর করতে হবে।
কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তামান্না বলেন, পরিবার ও সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও দারিদ্রতার কারনে আমরা নারী ও কিশোরীরা বাল্যবিয়ে, যৌতুকসহ প্রতিনিয় সহিংসতার শিকার হচ্ছি, এর কোন প্রতিকার নেই। পরিবারের প্রায় সব কাজই নারীরা করে অথচ এ কাজের কোনো আর্থিক স্বীকৃতি নেই। কিশোরী কেন্দ্রের ছাত্রী, নাদিয়া বলেন বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোর অধিবাসীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অথচ সরকারের কোন উদ্যোগ নেই, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবার মান বাড়াতে হবে।
এছাড়াও, আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে পৃথকভাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তারা বিভিন্ন দাবিসমূহ তুলে ধরেন।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী নিপীড়নের বিচার ও নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে...
-
ইউরোপ প্রতিনিধি:-আনহার বিন সাইদ বার্সেলোনায় গ্লোবাল জানালাবাদ এসোসিয়েশন স্পেন'রউদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল০৯মার্চ ২০২৬ইং রোজ রবিবার বার্সেলোনা শাহ জালাল জামে মসজিদে...
-
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে “নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন” শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকরেন।এই অনুষ্ঠানে নারী কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা সরাসরি উপস্থাপন করেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম বলেন, কৃষিক্ষেত্রে নারী কৃষকের অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় তারা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুবিধা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হন। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজ সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া একটি বড় বৈষম্য।এ বছরের নারী দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য এরাব ঃড় এধরহ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা এবং ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।স্থানীয় প্রতিনিধিরা নারী কৃষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।নারী কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। সেখানে নারী কৃষকেরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!