দশমিনায় কোস্টের আয়োজনে নারী দিবসে মানববন্ধন


স্টাফ রিপোর্টার :

শুধুমাত্র দিবস পালন নয়, বরং এ উপলক্ষকে একটি শক্তিশালী কর্মযজ্ঞে পরিণত করে সরকার, সমাজ ও ব্যক্তি মিলিতভাবে প্রতিটি নারী, কিশোরী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত  করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও তীব্র সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষত চরাঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে জীবন মান উন্নয়ন করতে হবে। বিকল্প আয় সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পরিবার ও সমাজে বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতন এবং সকল ধরনের সহিংসতা রোধে প্রশাষন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর আয়োজনে, আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ-এ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ সকল দাবিসমূহ তুলে ধরেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর এম. এ. হাসান এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, জলবায়ু ফোরামের সভাপিত পিএম রায়হান বাদল, নারী নেত্রী নিলুফার রউফ, তাহমিনা আক্তার, কিশোরি শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তামান্না আক্তার, ছাত্রী কামনা বেগম, নাদিরা, আক্তার, কোস্ট সিসিআর প্রকল্পের আতিকুর রহমান, সহ অনেকেই। মানববন্ধনে কিশোরী, নারী নেত্রী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


কোস্ট ফাউন্ডশেন-এর এম এ হাসান বলনে, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করলেই হবে না; বরং কার্যকর নীতি, শক্তিশালী আইন প্রয়োগ ও সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ঝুঁকিগ্রস্থ পিছিয়ে থাকা উপকূলীয় নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে, একটি সমতার, নিরাপত্তার এবং মর্যাদার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি পাশবিক নির্যাতন আজও আমাদের সমাজের এক দুঃখজনক বাস্তবতা। এই নির্যাতন শুধু শারীরিক কষ্ট সৃষ্টি করে না, বরং ভুক্তভোগীদের মানসিক ও সামাজিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু সুরক্ষিত থাকবে এবং তাদের অধিকার পূর্ণভাবে স্বীকৃত হবে।


জলবায়ু ফোরামের সভাপিত, পিএম রায়হান বাদল বলেন, নানাবিধ দুর্যোগ (নদীভাঙ্গন, বন্যা, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততা ইত্যাদি) এর কারণে শষ্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ পারিবারগুলো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, যে কারনে নারী, কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা প্রকট হচ্ছে। সরকারকে এই দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।


নারী নেত্রী নিলুফা রউফ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শিক্ষার প্রসার, আইনগত সহায়তা এবং সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন। এই প্রচেষ্ট এককভাবে সম্ভব নয়; এতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নারী নেত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, সকল প্রকার জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রচার ও প্রচারণা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিগুলো কার্যকর করতে হবে।


কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তামান্না বলেন, পরিবার ও সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও দারিদ্রতার কারনে আমরা নারী ও কিশোরীরা বাল্যবিয়ে, যৌতুকসহ প্রতিনিয় সহিংসতার শিকার হচ্ছি, এর কোন প্রতিকার নেই। পরিবারের প্রায় সব কাজই নারীরা করে অথচ এ কাজের কোনো আর্থিক স্বীকৃতি নেই। কিশোরী কেন্দ্রের ছাত্রী, নাদিয়া বলেন বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোর অধিবাসীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অথচ সরকারের কোন উদ্যোগ নেই, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবার মান বাড়াতে হবে।


এছাড়াও, আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে পৃথকভাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তারা বিভিন্ন দাবিসমূহ তুলে ধরেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?