- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬ ০৪:০৪ পিএম
পর্যটন খাতের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ : অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দরজা
দেশ পরিচালনায় প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সময়ের এই স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ একাধিক সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তবে সরকারের এই প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা। পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তুলতে উচ্চপর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৭ সদস্যের একটি ‘পর্যটনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ভূমি, বাণিজ্য, গৃহায়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রেলপথ, নৌপরিবহন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। পাশাপাশি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, কমিটিকে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন গঠিত কমিটির মূল দায়িত্বগুলো হলো—
দেশের পর্যটন শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে নীতিগত পরামর্শ প্রদান
পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশ তৈরি
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং পিপিপি মডেলে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ
এছাড়া প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও পর্যটন খাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, সিলেটের চা-বাগান, পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, বছরে মাত্র ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব হলে এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক আয় অর্জন করা যাবে। এর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন, হোটেল, হস্তশিল্প এবং সেবা খাতেও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যটন খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, আবাসন সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পর্যটন স্পটগুলোর অব্যবস্থাপনা এখনো বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজার, সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলের অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা কঠিন হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
সরকার আশা করছে, নতুন গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে একটি সংগঠিত ও টেকসই শিল্পে পরিণত করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
# এক শিক্ষকের নামই রয়েছে ৭ টি গবেষণাপত্রেরোকাইয়া: যবিপ্রবি প্রতিনিধি গবেষণাপত্রে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর গলাচিপায় জামায়াতের গণমিছিল হয়েছে।...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!