- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ ১০:০০ এএম
অভিযোগের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে হাসনাত আবদুল্লাহ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্ক ও স্ববিরোধিতায় পূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মাঠ পেরিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, গণমাধ্যমকে হুমকি, এবং দুর্নীতির নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অতি সম্প্রতি তাঁর দ্বিমুখী নীতি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের খতিয়ান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হাসনাত একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকার সুবাদে ছাত্রলীগ করতেন বলে জানা যায়। আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে পরিচিতি পাওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছেন খোদ সহযোদ্ধাদের একাংশ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার থাকলেও হাসনাতের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কর্মীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় হাসনাতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। এছাড়া, তাঁর বিলাসী জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিককে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার জেরে পরবর্তীতে ওই সংবাদটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাসনাতের বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগকে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় তাঁর আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় হাসনাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দেবিদ্বারে একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, বন্যা দুর্গতদের জন্য সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার ত্রাণের অস্বচ্ছ হিসাব এবং সোলার লাইট স্থাপন না করেই সরকারি তহবিল খরচের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাতের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে এসে সমালোচকদের 'আওয়ামী দোসর' কিংবা 'ভারতের দালাল' তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মব সংস্কৃতির চর্চা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই বিভাগের আরো খবর
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।রংপুর নগরীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাতের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে...
-
মোঃমামুন হাওলাদার শিমুল জিয়ানগর উপজেলা প্রতি নিধি পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগরে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন...
-
বরিশাল: দক্ষিণাঞ্চলের মান্তা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের লক্ষ্যে বরিশালে...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!