শিরোনামঃ

নলছিটিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘরের দরজায় দেয়াল,অবরুদ্ধ পরিবার


নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির নলছিটিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে মামলার বাদী মোঃ মেহেদী হাসান কামরুলের ঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ মোঃ নুর ইসলাম আকনের বিরুদ্ধে। এতে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের ভেতর অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোঃ মেহেদী হাসান কামরুল। বাইরে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনিও তাঁর পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন তিমিরকাঠি এলাকায়। ১৫ বছর ধরে বসবাস করা পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবী ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী মোঃ মেহেদী হাসান কামরুল বলেন, ২০১৭ জমি ক্রয়ের পরে বিল্ডিং করে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছিলাম।পাশের বাসার বিবাদী নুর ইসলাম আকনও আমরা একই জমিতে পথ ব্যবহার করতাম।হঠাৎ তিনি অন্যের প্ররোচনায় আমার যাতায়াতের পথ আটকে দেয়াল নির্মানের চেষ্টা করলে ঝালকাঠি জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩২৬/২০২৬ নামে মামলা দায়ের করি।বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমিতে পথ হিসেবে ব্যবহার করতে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আদেশ দেন এবং পরবর্তীতে দেওয়ানী মামলার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাও দেয়। বিবাদী নুর ইসলাম আকন আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে গত  লোকজন নিয়ে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেন।

অবরুদ্ধ নিপা বেগম জানান,আমার দুইটা শিশু সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে বাসার মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে আছি।বাসায় আলো-বাতাসও বন্ধ করে দিয়েছে।ছেলেটা নুরানি মাদ্রাসায় যেতে পারছেনা।তারা আদালত ও চেয়ারম্যানের কথাও মানতে নারাজ।তাদের অনেক টাকা পয়সা ও শক্তি আছে। নুর ইসলাম আকনরা চায় আমরা যেনো বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি ফেলে চলে যাই।

অবরুদ্ধের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, কারও বসতঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে মেহেদী হাসান কামরুলের চলাচলের পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিরোধের আইনগত সমাধানের দাবি জানান তাঁরা।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোঃ নুর ইসলাম আকনের বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবার কাউকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, বিষয়টি আমি জানি। তবে তারা ইউনিয়ন পরিষদে জানানোর পরে থানা ও আদালতে চলে যাওয়ায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যেকারও চলাচলের রাস্তা দিতে হবে। নাগরিক হিসেবে অবশ্যই তিনি রাস্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। 

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।




এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?