- প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬ ০৪:২৬ পিএম
নিখোঁজ সজীবকে উদ্ধার করলো গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সজীবের সন্ধান পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ| পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত অভিযানের ফলে সজীবকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে|
সজীব গোপালগঞ্জ শহরের পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা| তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের| দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পুলিশ অফিস ও গোপালগঞ্জ সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন| পুলিশ বা ইউনিফর্ম পরিহিত কাউকে দেখলেই তিনি স্যালুট দিতেন, যা সবার কাছে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছিল|
গত ১৫ মে থেকে সজীবকে আর পুলিশ অফিস কিংবা সদর থানার আশপাশে দেখা যাচ্ছিল না| বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০ মে তার মা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন| এরপরই সজীবের সন্ধানে মাঠে নামে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ| ছেলের খোঁজ না পেয়ে সজীবের মা বারবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে আকুতি জানান| তার কান্না ও উদ্বেগ পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিকভাবে বিষয়টি দেখার অনুপ্রেরণা জোগায়|
জানাগেছে, সজীবকে খুঁজে বের করতে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও মতিঝিলসহ একাধিক থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন| সজীবের বর্ণনা ও তথ্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পাঠানো হয়| পাশাপাশি ঢাকার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউজ পোর্টালে সজীবের সন্ধান চেয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগে ওয়্যারলেস বার্তা পাঠানো হয়|
তদন্ত চলাকালে কয়েকদিন পর ব্লগার আরিফ হায়দার একটি ভিডিও ব্লগ প্রকাশ করেন| সেখানে দেখা যায়, সজীব পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের এলাকায় ট্রাফিক ডিউটি করছেন বলে দাবি করছেন এবং নিজেকে “সজীব পুলিশ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন|
ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি বিশেষ টিম ঢাকায় ছুটে যায়| তারা মগবাজার, রমনা, পল্টন, মালিবাগ, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অনুসন্ধান চালায়| তবে ব্যাপক তল্লাশি সত্ত্বেও সজীবের কোনো সন্ধান মেলেনি| ফলে হতাশ হয়েই পুলিশ সদস্যদের দলটি গোপালগঞ্জে ফিরে আসে|
এছাড়া পূর্বে সজীবকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগার আরিফ হায়দারের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তার মাধ্যমে সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়| কিন্তু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন সজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না|
অবশেষে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফল মেলে| গত ২৪ জুন বিকেলে সজীবের সন্ধান পাওয়া যায়| পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়|
সজীবকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা ও পরিবারের সদস্যরা| এসময় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ফুল দিয়ে সজীবকে বরণ করে নেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পুনর্মিলনের আনন্দ ভাগাভাগি করে|
গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা সজীবকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে| পুলিশের প্রত্যাশা, সজীব ও তার পরিবার ভবিষ্যতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবে| সজীবকে উদ্ধারে পুলিশের এই আন্তরিক উদ্যোগ মানবিক পুলিশিংয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে| #
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের এক করুণ চিত্র দৃষ্টিগোচর হয়েছে আমাদের। জরাজীর্ণ ও ছোট্ট একটি ঘরে...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পিতার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিনতলা স্লুইসগেট এলাকায় চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিন বিভাগ যৌথভাবে...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!