শিরোনামঃ

নিখোঁজ সজীবকে উদ্ধার করলো গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সজীবের সন্ধান পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ| পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত অভিযানের ফলে সজীবকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে|


সজীব গোপালগঞ্জ শহরের পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা| তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের| দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পুলিশ অফিস ও গোপালগঞ্জ সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন| পুলিশ বা ইউনিফর্ম পরিহিত কাউকে দেখলেই তিনি স্যালুট দিতেন, যা সবার কাছে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছিল|


গত ১৫ মে থেকে সজীবকে আর পুলিশ অফিস কিংবা সদর থানার আশপাশে দেখা যাচ্ছিল না| বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০ মে তার মা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন| এরপরই সজীবের সন্ধানে মাঠে নামে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ| ছেলের খোঁজ না পেয়ে সজীবের মা বারবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে আকুতি জানান| তার কান্না ও উদ্বেগ পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিকভাবে বিষয়টি দেখার অনুপ্রেরণা জোগায়|


জানাগেছে, সজীবকে খুঁজে বের করতে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও মতিঝিলসহ একাধিক থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন| সজীবের বর্ণনা ও তথ্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পাঠানো হয়| পাশাপাশি ঢাকার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউজ পোর্টালে সজীবের সন্ধান চেয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগে ওয়্যারলেস বার্তা পাঠানো হয়|


তদন্ত চলাকালে কয়েকদিন পর ব্লগার আরিফ হায়দার একটি ভিডিও ব্লগ প্রকাশ করেন| সেখানে দেখা যায়, সজীব পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের এলাকায় ট্রাফিক ডিউটি করছেন বলে দাবি করছেন এবং নিজেকে “সজীব পুলিশ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন|


ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি বিশেষ টিম ঢাকায় ছুটে যায়| তারা মগবাজার, রমনা, পল্টন, মালিবাগ, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অনুসন্ধান চালায়| তবে ব্যাপক তল্লাশি সত্ত্বেও সজীবের কোনো সন্ধান মেলেনি| ফলে হতাশ হয়েই পুলিশ সদস্যদের দলটি গোপালগঞ্জে ফিরে আসে|


এছাড়া পূর্বে সজীবকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগার আরিফ হায়দারের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তার মাধ্যমে সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়| কিন্তু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন সজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না|


অবশেষে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফল মেলে| গত ২৪ জুন বিকেলে সজীবের সন্ধান পাওয়া যায়| পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়|


সজীবকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা ও পরিবারের সদস্যরা| এসময় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ফুল দিয়ে সজীবকে বরণ করে নেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পুনর্মিলনের আনন্দ ভাগাভাগি করে|


গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা সজীবকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে| পুলিশের প্রত্যাশা, সজীব ও তার পরিবার ভবিষ্যতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবে| সজীবকে উদ্ধারে পুলিশের এই আন্তরিক উদ্যোগ মানবিক পুলিশিংয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে| #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?