- প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০০ পিএম
মাদ্রাসার নির্মাণকাজে অনিয়ম প্রকৌশলীর নামে প্রশাসনে অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট ঃ
মাদ্রাসার নির্মাণকাজে ‘অনিয়ম’, প্রকৌশলীর নামে প্রশাসনে অভিযোগ
সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবন
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।
নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনের ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে, দেয়ালের হাতের সামান্য আচড়েই খসে পড়ছে প্লাস্টার। এছাড়া নিম্নমানের ইট, দরজা, জানালা ও পানির ট্যাংক ব্যবহারের অভিযোগও করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
ভবনটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ১২২ টাকা।
এসব অনিয়মের জন্য বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে দায়ী করে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম।
অভিযোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের গণস্বাক্ষরও নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশাল জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দের আওতায় মাদ্রাসাটির ভবন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ড্রইং, ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুমোদন হয় ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি।
মাদ্রাসার সুপার নুরুল আমিন কালামের অভিযোগ, ‘ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের মাত্র চার মাস। এর মধ্যেই বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাসে। এছাড়া কাঠের যে দরজা লাগানো হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। হাত দিয়ে দেয়ালে আচর দিলে খসে পড়ছে প্লাস্টার। ভবনে ৫০০ লিটার পানির ট্যাংকি বসানো হয়েছে, যা পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী।’
নুরুল আমিন কালাম বললেন, ‘শুরু থেকেই নির্মাণকাজে অনিয়ম চলছে। জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি তা আমলে নেননি।’
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গনি হাওলাদার বললেন, ‘ভবনে সব থেকে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ছাদের রড বের হয়ে আসছে, ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। যে কারণে ছাদের খোয়া, বালু উঠে আসছে।’
নির্মাণকাজের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন আবদুল গনি হাওলাদার। তিনি বলছিলেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির একটা লেভেল থাকে। মাদ্রাসার একতলা ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তার সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে প্রকৌশলী বিপ্লব।
‘আমি এখানে ঠিকাদারের দোষ দেব না। কেননা কাজটি সব সময় তদারকি করেছেন বিপ্লব কুমার। তিনি আমাদের সামনে ঠিকাদারের প্রশংসা করতেন। এতে তো কোনো কিছু বুঝতে বাকি থাকে না যে, ঠিকাদারকে দিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করাচ্ছেন বিপ্লব।’
মাদরাসার সুপার নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গণস্বাক্ষর করেছেন।’ নির্মাণকাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। তিনি বললেন, ‘নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফাইনাল বিল নিয়ে ঠিকাদারের মধ্যে একটু ঝামেলা ছিল। সেটি পাস হয়ে গিয়েছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি। ভবনের সমস্যাগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।’
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) ইমতিয়াজ মাহামুদ জুয়েলের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেছেন, ‘অভিযোগের কাগজটি হাতে পাইনি। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি আমার সোর্সের মাধ্যমে। তদন্ত করা হবে এবং দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!