শিরোনামঃ

কুমিল্লায় ৭ শিক্ষকের বদলির প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা



আব্দুল্লাহ আল মানছুর, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি//


শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই এই স্লৌগানকে সামনে রেখে,-কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষসহ ৭ শিক্ষকদের অযাচিত বদলির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


শনিবার( ২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে সাধারণ ছাত্রীদের অংশগ্রহনে শিক্ষকদের বদলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং জলাবদ্ধ পরিবেশে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতসহ কটূক্তির কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে সারাদেশে আন্দোলনে নামেন এইচএসসি ব্যাচ ২০২৬-এর শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলন থেকে সরে যান তারা। 


এদিকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত কলেজের সাতজন শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার(২৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণ থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।’


বদলি করা শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।


এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর(মাউশি) শিক্ষকদের একসাথে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বদলি করেছে, যাহা শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ড ঘটিয়েছে। অবিলম্বে আমাদের কলেজের শিক্ষকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী  সমাজ পুরো কুমিল্লা অচল করে দিবো। শিক্ষার মান উন্নয়ন না করে একযোগে ৭ শিক্ষককে বদলি তা নেক্কারজনক ঘটনা। 


শিক্ষার্থীরা আরো বলেন,কুমিল্লা সরকারি কলেজ শিক্ষক সংকটে দীর্ঘদিন ভুগতেছে। একদিকে শিক্ষক সংকট অন্য দিকে ৭জন কলেজ শিক্ষকদের বদলি তা কখনো মেনে নেওয়ার মত না। দ্রুত বদলি স্থগিতের পদক্ষেপ সরকার না নিলে আরো কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে ছাত্রীরা জানান।



এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?