- প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬ ০২:৩০ পিএম
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা: বেসিনে বর্জ্যের ডাস্টবিন!
রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য রাখা হাত ধোয়ার বেসিন এখন পরিণত হয়েছে মেডিকেল বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। গত ২৬ জুন(শুক্রবার)সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দার গ্রিলের পাশে থাকা একটি সাদা রঙের বেসিনটি বিভিন্ন প্রকার ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত চিকিৎসা সামগ্রীতে ঠাসা। সেখানে সরকারি ও বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের ওষুধের খালি কার্টন, ইনজেকশনের অ্যাম্পুল, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের প্লাস্টিক প্যাকেট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্জ্যের ভারে বেসিনের পানির কলটি ঢাকা পড়ে গেছে এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশে ডাস্টবিনের বক্স থাকলেও সেখানে বর্জ্য রাখা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, হাসপাতালের ভেতরে যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে প্রকাশ্য স্থানে এভাবে সংক্রামক মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এতে করে হাসপাতালে এসে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য অপসারণ না করে রোগীদের ব্যবহারের বেসিনে এভাবে ওষুধ ও সিরিঞ্জের বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হাসপাতাল প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীর মোছাঃ রহিমা বেগম (৪৫) নামের এক ভুক্তভোগী নারী রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গায়ে জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসলাম। কিন্তু বেসিনের কাছে গিয়ে দেখি রক্তমাখা সিরিঞ্জ আর ওষুধের খোসায় ভরে আছে। গন্ধও বেরোচ্ছে। হাসপাতাল যদি নোংরা থাকে, তাহলে আমরা সুস্থ হব কীভাবে? এগুলো দেখার কি কেউ নেই?
শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা এক অভিভাবকের নিজের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আউটডোরে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন,বাচ্চারা তো অবুঝ, ওরা যেকোনো জায়গায় হাত দিতে পারে। এভাবে প্রকাশ্য স্থানে বেসিনের ওপর বিষাক্ত সিরিঞ্জ আর ওষুধের বোতল ফেলে রাখা চরম বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ইনফেকশন ঘটতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ওষুধ নিতে আসা বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ (৬৭)বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু ভেতরের এই নোংরা পরিবেশ দেখে বুক কাঁপে। হাত ধোয়ার বেসিনটাকে ডাস্টবিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কী কাজ করে তা আল্লাহ-ই জানেন! এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন বেসিনের ভেতর মেডিকেল বর্জ্য স্তূপ করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। নিয়মানুযায়ী সমস্ত ব্যবহিত সিরিঞ্জ, অ্যাম্পুল ও ওষুধের কার্টন নির্দিষ্ট সেফটি বক্স বা ডাস্টবিনে ফেলার নিয়ম রয়েছে। কোন ওয়ার্ড বা কোন শিফটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলার কারণে এমনটা ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসিনটি পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্বরত কর্মীদের সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের উদাসীনতা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের এক করুণ চিত্র দৃষ্টিগোচর হয়েছে আমাদের। জরাজীর্ণ ও ছোট্ট একটি ঘরে...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পিতার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিনতলা স্লুইসগেট এলাকায় চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিন বিভাগ যৌথভাবে...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!