- প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫৮ এএম
কাপ্তান বাজারের রাত্রিকালীন মুরগি বাজারে সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
ঢাকার কাপ্তান বাজারে অবস্থিত রাত্রিকালীন পাইকারি মুরগি বাজারে বৈধ ইজারাদার ও তাদের কর্মচারীদের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্বারক নম্বর ৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.৬৯৭১, ২০২৩/৭২৭ (তারিখ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী ওয়ারী থানাধীন কাপ্তান বাজারস্থ রাত্রিকালীন পাইকারি মুরগি বাজারে এক বছরের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে বৈধভাবে ইজারাদার হিসেবে নিয়োগ পায় ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র অবৈধভাবে বাজার দখলে রেখে ইজারা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে এমদাদ পাটোয়ারী, নুরুল ইসলাম ও জুম্মনের নেতৃত্বে আখতার, আব্দুর রহমান, সুমন, রাসেল, ফরহাদ, হায়দার, রতন, সাগর সহ ৭০-৮০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বাজার বন্ধ করে রাখে এবং ইজারা আদায়ে এলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পরদিনও একইভাবে বাজার বন্ধ রেখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়।
মো. শাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ২৫ নভেম্বর রাতে ইজারার অর্থ আদায়ে গেলে সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন ৬ লাখ টাকা এবং এককালীন ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পাশাপাশি ২০০টি দোকান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সেখান থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের শর্ত দেয়। শর্ত মানা না হলে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ২৬ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ দোকানের মধ্যে সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা দুই শতাধিক দোকান বাদ দিয়ে মাত্র ৭০-৮০টি দোকান থেকে ইজারা আদায় সম্ভব হয়েছে। এ সময় একাধিকবার সশস্ত্র হামলায় ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গুরুতর আহত হন।
গত ৭ ডিসেম্বর ভোরে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাজিরা অফিস এলাকায় ইজারা আদায়ের সময় হামলায় কর্মচারী মিজানুর রহমান বিল্লালের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক লাখ বিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১২ ডিসেম্বর ভোরে আরও ভয়াবহ হামলায় শাহজানানসহ অন্তত ১০ জন কর্মচারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এসব ঘটনায় ওয়ারী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লিখিতভাবে অবহিত করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাজার কমিটির নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিন বাজার জোরপূর্বক বন্ধ রাখা হয়। ১৫ ডিসেম্বর কমিটির সভাপতি সাইজুদ্দীন সাজুর আশ্বাসে বাজার পুনরায় চালু হলে সুমন, রহিম, রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জন আবারও সন্ত্রাসী হামলা চালায় যাতে ছয়জন কর্মচারী গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুসারে জানা যায় এরা হামিদুর রহমান হামিদ-এর ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের কর্মচারীরা জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পারছে না। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এটি আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের প্রশ্ন।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে জড়িত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার, কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ ইজারা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় সরকারের সর্বোচ্চ মহল, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী,প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নে বৃষ্টিতে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় পানি নামাতে স্কুলের মাঠ কেটে ‘ক্যানেল’...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে| গোপালগঞ্জ ওয়াই ডাব্লিউ সি এ রাইজআপ প্রকল্প-৫ এর আয়োজনে এ...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!