শিরোনামঃ

হিজলায় অভিযানের সুফল পাচ্ছেন জেলেরা, বড় পাঙ্গাশে খুশি জেলেরা



নিজস্ব প্রতিবেদক:


বরিশালের হিজলায় মৎস্য অধিদপ্তরের অব্যাহত অভিযানের সুফল মিলতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে বড় আকারের পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে। এতে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব অবৈধ জালের কারণে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছিল। তবে হিজলা উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের  ব্যাপক তৎপরতায় পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জালের বিশাল একটি অংশ জব্দ করা হয়েছে। যে কারনে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমানে নদীতে বড় বড় দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে।


স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তাদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা বিগত কয়েক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি। নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন।


হিজলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, উপজেলার মেঘনা নদীতে গত দুই বছর ধরে সব ধরনের অবৈধ বেহুন্দী জাল, পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই এবং সুতার তৈরি লাইন বর্শি উচ্ছেদে আমরা সফল হয়েছি। একই সঙ্গে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নদীতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত ছিলো। ফলে নদীতে দেশীয় পাঙ্গাশের আধিক্য লক্ষ করা যাচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, সাধারণত শীত মৌসুমে সীমিত পরিমাণে পাঙ্গাশ পাওয়া গেলেও এবার মৌসুমের বাইরে গিয়েও জেলেদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, পোনা নিধন ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে নদীর মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। আমাদের এই অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?