শিরোনামঃ

হাইকোর্টের রুল ও শোকজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন


আব্দুল্লাহ আল মানছুর,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:


হাইকোর্ট বিভাগের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা শোকজ ও রুল জারির পরও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। 


সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—দেশে কি আইনের শাসন কার্যকর আছে, নাকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও এখন উপেক্ষিত হচ্ছে?


জানা গেছে, কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২০২৬-২০২৮ এর আয়োজনকৃত ইসি প্রধানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি শেষে গত ২৯ জুলাই মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ইসিসহ সকলকে শোকজসহ রুল জারি করে নির্দেশ প্রদান করেন।


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের

বিজ্ঞ বিচারপতি মিসেস ফাহমিদা কাদের এবং বিজ্ঞ বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বেঞ্চ রিট পিটিশন নং-১০১৭৩/২০২৬ এর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিটে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ও সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নতুন নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ এবং পুনর্নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 


তবে অভিযোগ উঠেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩০ জুলাই দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত  কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিতসহ ভোট গ্রহন ও  ফলাফল কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রাখলেন- কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন-২০২৬-২৮ এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহ মো. আলমগীর খান, নির্বাচন কমিশনার আবুল হাসনাত বাবুল ও নির্বাচন কমিশনার বদরুল হুদা জেনু। 


এদিকে মহামান্য হাইকোর্ট কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিটির প্রতি শোকজ ও রুল জারি করার পরও প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনার আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম চলমান রাখায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার তাৎক্ষণিক ভাবে কুমিল্লা প্রেসক্লাব এর নিকট নির্বাচন বন্ধ ইস্যুতে চিঠি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেয়ার পরও প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনার কোন প্রকার কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন চলমান রেখেছেন।


রিট পিটিশন নং ১০১৭৩/২০২৬-এর আবেদনকারী সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মানছুর রিট পিটিশনের মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির মধ্যে অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা এবং তাদের মনগড়া ইচ্ছেমতে অশিক্ষিত ও বিভিন্ন লোকজনকে প্রেসক্লাবের সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত করায় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টের নিকট রিট পিটিশন দাখিল করেন। 


মহামান্য হাইকোর্টও আবেদনকারীর রিট পিটিশন পর্যালোচনা করে  ন্যায় বিচারের জন্য ২৯ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন বন্ধের ইস্যুতে কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সকলের প্রতি শোকজ ও  রুল জারি করেন।


আবেদনকারী পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন। 

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।



এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?