গৌরনদীতে নির্মানাধীন মডেল মসজিদ স্থানান্তরের গুঞ্জন, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মানাধীন গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ রহস্যজনক কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও পূনরায় দ্রুত নির্মান কাজ শুরুর দাবিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ জুমা মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্মানাধীন মডেল মসজিদের সামনে মহাসড়কের পাশে সচেতন গৌরনদী উপজেলার মুসুল্লীগণের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সচেতন মুসুল্লীসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলতি বছরের শুরুর দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা আশোকাঠী ব্রাক অফিসের পাশে অধিগ্রহনকৃত জমিতে শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে নির্মান কাজের ৩০ ভাগ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হঠাৎ করে গত দশদিন থেকে পুরো নির্মান কাজ বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদার।
স্থানীয় তরুন সমাজ সেবক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ মো. এনামুল হক বলেন, কাজ বন্ধের ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি জানিয়েছেন সরকারের কোন এক কর্মকর্তা কাজটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। কারণ মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মুসুল্লীদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে মুসুল্লীদের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্মান কাজ শুরুর দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গৌরনদী পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান আকবর তার বক্তব্যে বলেন-৩০ ভাগ নির্মান কাজ শেষের পরে এখন যদি মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সরকারের বিপুল পরিমান আর্থিক লোকসান হবে। তাছাড়া মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করার কোন যৌক্তিকতাও নেই। তাই যেকোনমূল্যে নির্মানাধীন স্থানে কাজ সম্পন্নের জন্য তিনি তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গৌরনদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ ঘরামী বলেন-সারাদেশের মডেল মসজিদগুলোর নির্মানকাজ অনেক আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে গৌরনদীর মডেল মসজিদের নির্মান কাজে ভাটা পরেছিলো। পরবর্তীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মডেল মসজিদের নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারের ভাষ্যমতে ইতোমধ্যে নির্মান কাজের প্রায় ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় মডেল মসজিদটি যদি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় তাহলে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ লোকসান হবে। আর এ ষড়যন্ত্র যদি কেউ করে থাকেন, তাদের গৌরনদীর মুসুল্লীদের নিয়ে প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে যেখানে মডেল মসজিদের নির্মান কাজ হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করার জন্য তিনি (সাবেক কাউন্সিলর) স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান, গনঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, পৌর বিএনপির সদস্য হুমায়ুন পাইক, ওয়ার্ড যুবদল নেতা ওয়াসিম ফকির, আবু সাইদ, নুর আলম, নজরুল সরদার, আরিফ ফকির, সোবহান সরদার প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মডেল মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, গণপাঠাগার এবং সামাজিক-ধর্মীয় কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। তাই নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গৌরনদীর মানুষ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মডেল মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও মানববন্ধনকারীরা উল্লেখ করেন। মসজিদ নির্মানকারী ঠিকাদার টিপু সুলতান বলেন, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ থেকে আমাকে মৌখিক ভাবে নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাই কাজ বন্ধ রেখেছি। তিনি আরও বলেন, মসজিদ নির্মানের প্রায় ৩০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে আমি প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিল নিয়েছি। এবিষয়ে জানতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।