শিরোনামঃ

গোপালগঞ্জে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো সেই বিচারক প্রত্যাহার, শাস্তির দাবীতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথা ফাটানোর ঘটনায় বিচারক মো: সুজন মিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


আজ (২৩ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যেই ওই বিচারককে দ্বায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।


আজ বুহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) এ. এফ. এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তখ্য জানাগেছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের সাথে পরাদর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিশাল সার্ভিসের নিন্মবর্ণিত সদস্যকে বর্তমান কর্মস্থল হতে বদলি করে পুনরাদেশ না দেয়া পযর্ন্ত তার নামের পাশে বর্ণিত পদে ও কর্মস্থলে বদলি করা হলো।


প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, উপরিবর্ণিত বাংলাদেশ জুডিসিশাল সার্ভিসের সদস্যদের দপ্তর প্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট অদ্য ২৩/০৭/২০২৬ খ্রি: অপরাহ্নে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের হন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


এর আগে সকালে ওই বিচাকের প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবীতে গোপালগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে জড়ো হন আইনজীবীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারী আইনজীবীরা "আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই", "এজলাসে রক্ত কেন, প্রশাসন জবাব চাই", "ঘুষখোরের আস্তানা গোপালগঞ্জে হবে না" সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন|


পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশে অ্যাভোকেট হাবিবুর রহমান, অ্যাভোকেট মিলন শরীফ, অ্যাভোকেট সোহাগ সমাজদার, অ্যাভোকেট রোকাইয়া আক্তারসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন|


সমাবেশে অ্যাভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, আদালত চলাকালে কোনো আইনজীবী বা শিক্ষানবিশ আইনজীবী অশোভন আচরণ করলে বিচারক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারতেন| কিন্তু তিনি যেটি করেছেন, সেটি আইনবহির্ভূত| একজন নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আহত করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল| এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায় নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে দ্রুত গোপালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি|


অ্যাভোকেট মিলন শরীফ ও অ্যাভোকেট সোহাগ সমাজদার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সংশ্লিষ্ট বিচারকের আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করা হয়েছে| তবে শুধু আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার নয়, তাঁকে গোপালগঞ্জ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তারা| তাদের মতে, একজন বিচারকের কাছ থেকে মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে| তাই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত|


অ্যাভোকেট রোকেয়া আক্তার বলেন, নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আহত করার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়| এর আগেও একই বিচারক একজন মোহরারের দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন| তিনি বলেন, আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকের আচরণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে|


গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপালগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করা হয়েছে|


প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, গোপালগঞ্জ, আদালত-২ এর বিচারক মোঃ সুজন মিয়ার আদালত চলাকালিন সময়ে আদালত কক্ষের বসার বেঞ্চের পিছনের দিকে বিচার প্রত্যাশীরা আইনজীবীদের সাথে কথা বলছিলেন। এসময় কথা বলতে দেখে বিচারক মোঃ সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে একটি একটি কাঁচের পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন| এতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় লেগে মাথা ফেটে গেল মারাত্মক আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়|


জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাবিহা সুলতানা সিনিয়র আইনজীবী এম. এম. জুলকদর রহমানের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কর্মরত| #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?