শিরোনামঃ

গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে আয়োজিত হয়েছে 'বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব'



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : বসন্তের মাতাল হাওয়া আর পিঠার সুগন্ধে মুখরিত চারপাশ। ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে এবং বাঙালির ঐতিহ্যকে ধারণ করতে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ 'বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব'। সেই সাথে নবীনবরণ এ উৎসবের আনন্দ আরো বাড়িয়ে তোলে। দেশীয় ঐতিহ্য ধরতে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজনের কথা জানান আয়োজক কমিটি।


বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তের আগমনে প্রকৃতি আজ নবরূপে সজ্জিত। শিমুল-পলাশের লাল আভা আর কোকিলের কুহুতানে চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, সেই আনন্দকে দ্বিগুণ করতে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে আয়োজন করা হয়েছে 'বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের”।


আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে গোপালগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মো: ইকবাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে 'বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের” অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শাহ আলম।


বসন্ত বরণের মূল আকর্ষণ হিসেবে ছিল ১৪টি স্টলে প্রায় ৫০ ধরণের বাহারি পিঠার সমারোহ। কলেজ ক্যাম্পাসে প্যান্ডেল, স্টল ফুলসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে স্মরণ করে স্টলগুলোতে সাজানো ভাপা ও চিতই পিঠা দিয়ে। ক্ষীর আর নারকেলের পুরে ঠাসা পাটিসাপটা যেন শৈশবের স্বাদ মনে করিয়ে দিচ্ছিল। বাসন্তী রঙের শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা পরে তরুণীরা এবং হলুদ পাঞ্জাবিতে তরুণরা অংশ নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে একটি রঙিন ক্যানভাসে পরিণত করে। রাখা হয় অন্তত ১০টি দৃষ্টি নন্দন সেলফি স্পট। ভোজন রসিক বাঙ্গালী শীতের পিঠার স্বাদ পরখ করে রসনার তৃপ্তি মেটান।


অতিথিরা ক্যাম্পাসের ১৪টি পিঠা স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে এতে অংশ নিয়ে নির্মল আনন্দ উপভোগ করেন। 


এর আগে একাদশ শ্রেণির সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে ক্যাম্পাসে বরণ করে নেওয়া। ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফখরুজ্জামানের সঞ্চালনায় ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলাচনাসভায় নবীন বরণ কমিটির আহবায়ক মনিরুজ্জামান শেখ, একাদশ শ্রেণির তত্ত্ববধায়ক কমিটির আহবায়ক মো: দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থী সোহানা আল ইমাম, মাহিমা, আল মেহেদী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।


বিকেলে শ্রেষ্ঠ স্টল ও সেরা পিঠা প্রস্তুতকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণের মিলনমেলা।


শিক্ষার্থী অন্তরা রায় জ্যোতি বলেন, এবার প্রথমবারের মত আমাদের কলেজে'বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের” আয়োজন করা হয়েছে। সবাই বন্ধু-বান্ধবী মিলে কলেজে এসেছি। এমন আয়োজন করায় আমরা খুবই খুশি। বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে বিভিন্ন দরনের পিঠা দেখলাম ও খেলাম। বাড়ীতে এত ধরনের পিঠা বানানো হয় না। এখানে এতো পিঠা দেখে খুব ভালো লাগছে।


শিক্ষার্থী সোহানা আল ইমাম, আমরা যারা নতুন প্রজন্ম এত পিঠা আগে দেখিনি। এখানে অন্তত ৫০ রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়েছে। দেখে খুব ভালো লাগলো। 


শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: রাকিবুল ইসলাম বলেন, শহরের যান্ত্রিক জীবনে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের শেকড়কে ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম। এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির আসল সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে বলে মনে করি।


গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, "বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলে।"প্রতিবছরই এমন আয়োজন থাকবে আমাদের। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?