- প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৪ পিএম
গলাচিপায় জোরপূর্বক খেয়াঘাট দখলের ঘটনায় আদালতে মামলা
গলাচিপা,পটুয়াখালী,প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটের ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে জোরপূর্বক ঘাট দখলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর আদালতে মামলার অভিযোগ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাইমুল ইসলাম। আদালতের বিচারক নওরীন আহমেদ অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ হোসেন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৮ মার্চ একই ঘটনায় গলাচিপা থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি।
মামলার আরজিতে সোহেল আকন (৪০), গলাচিপা ছাত্র অধিকার পরিষদের তরিকুল ইসলামসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
১৭ মার্চ রাত ১০টার দিকে গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকায় প্রভাবশালী একটি মহল খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহাসহ কয়েকজনকে মারধর করে ঘাট দখল করে নেয়। এ সময় ক্যাশ টেবিলে থাকা টোলের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় সেনাবাহিনী ও থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও খেয়াঘাটটি দখলমুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু দখলের সময় তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নাম ব্যবহার করেছেন।
হামলার শিকার খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহার অভিযোগ, সোহেল আকন ও তালেবের নেতৃত্বে শতাধিক লোক এসে তাঁদের মারধর করেন এবং টোলের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের ঘাট থেকে বের করে দেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা আর খেয়াঘাটে যাননি।
ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে বৈধভাবে খেয়াঘাটটির ইজারা পেয়েছেন, যার মেয়াদ আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত আছে। কিন্তু দখলকারীরা জোর করে ঘাট দখল করে টোল আদায় করছেন।
খেয়াঘাট দখলের নেতৃত্বে থাকা সোহেল আকনের ভাষ্য, ‘জনগণের স্বার্থে মন্ত্রী মহোদয় (নুরুল হক) খাস আদায়ের মাধ্যমে পাঁচ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।’ তাই স্থানীয় মাঝিরা সে অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। খেয়াঘাট দখলের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কোনো নির্দেশেনা দিয়েছেন কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।
খেয়াঘাট দখলের বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খেয়াঘাট দখলের ঘটনার পরের দিন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিককে বলেছিলেন, খেয়াঘাট দখলকারী ব্যক্তিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর বিরোধিতা করেছেন। পরে আবার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছে গেলেও তিনি তাঁদের অন্যায় আবদারকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে আইনের বাইরে কিছু না করতে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন।
এই বিভাগের আরো খবর
-
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ক্রয়ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা অবসরের পরই যুক্ত হয়েছেন বেসরকারি একটি ব্যবসায়িক বলয়ের সঙ্গে। তাঁদের কেউ ছিলেন...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের...
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর। আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে রংপুর বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!