শিরোনামঃ

দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে হোমনার শিক্ষা অফিসার হানিফ, ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন



আব্দুল্লাহ আল মানছুর,

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি//


কুমিল্লা হোমনা উপজেলার সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়া নানা অনিয়ম, দুর্নীতি করে কোটি কোটি  টাকার বাণিজ্য করেও বহাল তবিয়তে চাকরিতে বহাল থাকার অভিযোগ এসেছে। 


সহকারি শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, উপরোক্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লিপসহ বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও এখনো থেমে নেই তার অনিয়মের কর্মকাণ্ড। হানিফ মিয়া বরাদ্দকৃত সকল খাতের প্রায় ৩০-৪০ ভাগ প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ভাগাভাগি করে নিয়ে নিতেন।


সহকারি শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়া উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে কোনো না কোনো বরাদ্দের অর্থ প্রধান শিক্ষকদের না বলেই নিজেই সরকারি অর্থ গায়েব করে ফেলারও অভিযোগ এসেছে। 


জানা যায়, গত ২০১৪ সালে তৎকালীন পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আ.হ. মোস্তফা কামাল(লোটাস কামাল) এর হাত ধরে সরকারি চাকরিতে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়া যোগদান করেন। পরবর্তীতে হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম অভিযোগ থাকায়  প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়। 


বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সহকারি শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা জেলার  লালমাই উপজেলার বদরপুর গ্রামে হওয়া'য় বিভাগীয় বদলি করলেও নিজ এলাকায় বেশির ভাগ সময় অবস্থান করে নানা অপকর্মে জড়িত থাকেন এবং তাহার নামেও কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন াবাসন প্রকল্পে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।


 সর্বশেষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাত ধরে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কুমিল্লা মনোহরগন্জ উপজেলা ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে হোমনা উপজেলায় সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে হানিফ মিয়া যোগদান করেন।


হানিফ মিয়া হোমনা উপজেলায় যোগদান করার পর পর বিভিন্ন উৎস থেকে রমরমা নানা দুর্নীতির অর্থ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল বিরুনি প্যালেস নামক ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখারও সত্যতা মিলেছে। অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, নামে মাত্র আল বিরুনি প্যালেস এর পরিচালক হয়ে দুর্নীতির অর্থ

কুমিল্লা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করে অর্থ বাণিজ্য করারও অভিযোগ এসেছে। 


সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর ১৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী সরকার কর্তৃক পূর্বানুমোদিত না হলে কোনো সরকারি কর্মচারী অন্য কোনো লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করতে বা সরকারি দায়িত্ব বহির্ভূত কোনো কর্মসংস্থান গ্রহণ করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মহানগরীতে অবস্থিত আল বিরুনি প্যালেস নামক ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক হিসেবে যোগদান করে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক মনোহরপুর কুমিল্লা শাখায় প্রায় ১০কোটি টাকারও বেশি লেনদেন করেন মেঘনা উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়া। সহকারি শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়ার এতো সম্পদের পাহাড় ও এতো টাকার উৎস কোথায়! তা এখন সাধারণ মানুষের জানার  প্রশ্ন।


এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারজানা শেলী বলেন- সরকারি চাকরির বিধি মোতাবেক কোন ব্যক্তি সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এর সত্যতা মিললে অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এর যর্থাথ ব্যবস্থা নিবেন।


হোমনা উপজেলায় প্রায় ৯২টি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার এমন বাণিজ্যের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বলা হলেও এর কোন প্রতিকার পাননি কেউ। অভিযোগ দায়ের হলেও সকল অভিযোগ চাপা দিয়ে তিনি হোমনা'য় উপজেলায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।  তার আত্মসাতের বড় একটা অংশ চলে যেতে বিগত সরকারের রাজনৈতিক তহবিলে। যার কারণে ওই সময় ক্ষমতার বলে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পেতো না। 



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বরাদ্দ হয়। এসব বরাদ্দের বড় একটা অংশ রেখে দিতেন তিনি। অফিসের ও শিক্ষকদের মধ্য থেকে তার টাকা কালেকশনের জন্য নির্ধারিত লোকও  ছিল। তাদেরও একটি ভাগ থাকতো এই অর্থ থেকে। এছাড়া শিক্ষকদের লোন ফরমে স্বাক্ষর করতে টাকা, ট্রেনিং এর নাম দেওয়ার জন্য টাকা আদায় ছিল তার নিয়মিত। বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের কারণে অকারণে শোকজ করে প্রতিদিন তার একটা বড় আয় ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। 


অভিযোগের বিষয়ে হোমনা উপজেলার অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হানিফ মিয়াকে কয়েকবার কল করা হলে  তিনি ফোন  কলটি রিসিভ করেননি।




এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?