- প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৩ পিএম
চরফ্যাশনে আটকিয়ে মারধর,অজোরে কাদলেন পিতা ॥ উদ্ধার করলেন পুলিশ
ভোলা প্রতিনিধি॥
সম্পত্তির লোভে ভোলার চরফ্যাশন বৃদ্ধ পিতা হাসান টিপু মৃধাকে আটকিয়ে আইডি কার্ড,চেক বই নিয়ে মারধর করলেন মেয়ে ও ঝামইরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। গতকাল (১৫জুলাই) উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ৩নং ওয়ার্ড মৃধা বাজার এলাকায় মৃধা বাড়িতে এই ন্যাকারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত হাসান টিপু মৃধা কালের কন্ঠকে বলেন, আমার বাজার ভিটেসহ প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। আমার ২কন্যা,কোন পূত্র সন্তান নেই। আমি শিশু বয়সে একটি পুত্রসন্তান পাল্লক হিসেবে লালন পালন করি। নাম রাখি মিজানুর রহমান সোহাগ। ওই সন্তানকে নিজের সন্তান মনে করে উচ্চ শিক্ষা(বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আর্নাস মাষ্টার্স) শিক্ষিত করি। মেয়েদের নামে হেবা দলিল দিয়ে দু’ বাড়িতে ঝামাই সহ বসবাস করতে দেই। তৃতীয় বাড়িতে আমার পুত্র সন্তানকে ৮শতক জমি দলিল রেজিষ্ট্রারি করে দিতে চাইলে মেয়ে, ঝামাই এবং নাতীন ঝামাইদের চোখের কাটা হয়ে দাড়ায়। দফায় দফায় আমার উপর হামলা চালিয়ে আমার ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাংক চেক আটক করে রাখে। বুধবার সকাল ১০টায় আমার ছোট মেয়ে বিলকিছ বেগম রেনুর কাছে আমার অগ্রহনী ব্যাংকের চেক চাইলে মেয়ে এবং মেয়ের ঝামাই নাছির, মেয়ে সালমা,রেনু আমার পাঞ্জাবীর কলার ধরে মারধর করে আটকিয়ে রাখে। আমার ডাক চি’কারে আমার পুত্র সন্তান দৌড়িয়ে আমাকে ছাড়াতে আসলে আমার চোখের সামনে মাইনউদ্দিন মৃধা,,বিলকিছ,সালামা ও নাছির কাঠের বাগা দিয়ে এলোপাথারী মারধর করলে আমার সন্তান অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে লুঠিয়ে পরেন বলে কেদে দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীরা উদ্ধার করে প্রথম স্থানীয় মৃধা বাজার ফার্মেসি সেখান থেকে চরফ্যাশন হাসপাতালে গেলে সেখানে হামলা চেষ্টা করে এক পর্র্যায়ে সংবাদকমীদের ভয় দেখিয়ে গোপনে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকি’সা দিন আছি।
টিপু মৃধা কেদে কেদে বলেন, মারধর করেও তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি, জমি সব মেয়ে এবং ঝামাইদের নামে না লিখে দিলে নাতীন ঝামাই জাকির ও বাবুল জ্যান্ত মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়াও আমার ১৯টি গরু,ভেড়া ও ছাগল নিয়ে যায় এবং দোকানের ভাড়া উঠাতে বাধা দিচ্ছে। আমি তাদের রোশানল থেকে বাচতে চাই।
হাসান মৃধা আরো বলেন, আমি মরে গেলে আমার এই পাল্লক পুত্র কোন সম্পত্তি পাবে না,তাই আমি বাড়িসহ ৮শতাক জমি দেয়া যদি অপরাধ হয় তাহলে প্রশাসন আমার বিচার করবে, যে সন্তানদেরকে কোলে তুলে মানুষ করেছি আজ তাদের হাতে মারখেতে হবে এটা আল্লাহ সহ্য করবে না।
গুরুত্বর জখম মিজানুর রহমান সোহাগ বলেন, আমাকে উচ্চ শিক্ষা শিক্ষিত কেন করলো এই নিয়ে আমার বোন এবং ভগ্নীপতিরা বাবার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি এমন পরিস্থিতি দেখে বাবার বাড়ি ছেড়ে অন্যাত্রে বসবাস করি,প্রায় ৫মাস পর বাবা আকুতি এবং আমার মা, বোনদের কথা আবার বাড়িতে চলে আসি। বাবা যখন ষ্টোক করে সুস্থ্য হওয়ার পর, মা,বোনদের পরামর্শে আমার নামে ৮শতাংশ জমি দলিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই দলিল নিয়ে বাবাকে মারধর করে,তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে হামলা করে এবং আমার সাথে থাকা মানিব্যাগে নগদ ২০হাজার টাকা,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে দেয়।
পিতা হাসান টিপু মৃধা বলেন,আমার ভাই মাইনউদ্দিন মৃধার ষড়যন্ত্র করে, আমি যেন কোন সম্পত্তি আমার ছেলেকে না দেই আমার মেয়ে এবং ঝামাইদেরকে লিলিয়ে দিয়ে দফায় দফায় আমার এবং আমার পুত্র সন্তানের উপর হামলা চালিয়ে মেরে ফেলতে চায়,আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের হস্তেক্ষেপ,এবং থানা প্রশাসনের কাছে সুস্থ্য বিচারের দাবী করছি।
শশীভুষণ থানার এ এসআই খলিল বলেন, মারধরের কথা শুনে মৃধা বাজার থেকে হাসান টিপুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এব্যাপারটি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : প্রয়াত বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আলোচনা সভা...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০জন আহত হয়েছে।শুক্রবার (১৪ আগস্ট)...
-
একটি দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন শুধু সরকারের নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করে না; সেই নীতি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!