- প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২১ পিএম
চর নিয়ে দুই উপজেলার দ্বন্দ্ব, সমাধান চেয়ে এক উপজেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি
সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃ
বরগুনায় বিষখালি নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা রুহিতার চরকে কেন্দ্র করে বামনা ও বেতাগী উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি দিয়েছেন বেতাগী উপজেলার ভূমিহীনরা।
গতকাল সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ, বুড়া মজুমদার ও সরিষামুড়ি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবার অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বিষখালী নদীর ভাঙনে তাদের রেকর্ডীয় জমি বিলীন হয়ে গেলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়া জমির স্থানে নতুন করে রুহিতার চর নামে একটি চর জেগে ওঠে। ২০১১ সাল থেকে বেতাগী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনরা সেখানেব সতঘর স্থাপন করে চাষাবাদ করছেন। তবে ২০২৪ সালে বামনা উপজেলার চরসংলগ্ন এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেখানে চাষাবাদে বাধা দেন। এ নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের মাধ্যমে উভয় উপজেলার সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এবং দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একাধিকবার মৌখিক ও অস্থায়ী আইল (সীমানা) নির্ধারণ করা হলেও তা মানছে না বামনা উপজেলার একটি পক্ষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা চাষাবাদ শুরু করলে তাদের ধান কেটে নেওয়া হয় এবং একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সময়েই রুহিতার চরে বেতাগী উপজেলার কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কালিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ আলী বলেন, “নদীভাঙনে আমাদের বাপ-দাদার সব জমি চলে গেছে। চর ওঠার পর সেখানে চাষ করে বাঁচার চেষ্টা করছি। কিন্তু গত বছর বামনা উপজেলার বাসিন্দারা আমাদের চর দখল করে নেয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের দুই উপজেলার বাসিন্দাদের আলাদা অস্থায়ী সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু সেই সীমানা বামনা উপজেলার বাসিন্দারা না মেনে উল্টা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা গরিব মানুষ একে তো আমাদের সব গিয়েছে। এখন আবার আমরা মামলার ভুক্তভোগী হয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এর সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছি।”
একই গ্রামের নির্মল চন্দ্রশীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“নদী আমাদের নিঃস্ব করেছে। চর ওঠার পর নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন সেই স্বপ্নও কেড়ে নিতে চায়। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের ফসল এখন কাটতে তারা দিবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের জমির স্থায়ী সীমানা নির্ধারণ ও মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য আজকে এখানে এসেছি এছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।”
বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন,
“ রুহিতার চরে চাষাবাদ করতাম কিন্তু বামনা উপজেলা বাসিন্দারা গত বছর থেকে আমাদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে কয়েকবার আমরা প্রশাসনের দারস্ত হয়েছি। সমাধান হয়নি, উল্টো বামনা উপজেলা বাসিন্দারা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তাই আজ আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের দাবির ন্যায্যতা তুলে ধরেছি। জেলা প্রশাসকও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”
সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন জানিয়ে বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান জমাদ্দার বলেন,
“জেলা প্রশাসক যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে সমাধানের পথে আমরা যেতে পারবো। তিনি এই দ্বন্দ্ব নিরসন করার জন্য দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন। তাই আমাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যার করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।"
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিপিসি (বোয়ালিয়া, পক্ষিয়া ও চরখালী) স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় নেই...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥বরিশালের গৌরনদীতে রাতের আধাঁরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স (এএসডিএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার সুবিধার্থে...
-
কামরুল সিকদার ভোলা -জেলা প্রতিনিধি দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার চরফ্যাশনে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!