চন্ডিপাঠের মধ্যে দিয়ে গোপালগঞ্জে মহালয়ার অনুষ্ঠাকিতা অনুষ্ঠিত



স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : চন্ডিপাঠ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মন্দিরে শুভ মহালয়ার অনুষ্ঠাকিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সুচনা হবার পশাপশি শুরু হয়েছে পুজার অনুষ্ঠিকতা।


শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালী বাড়ীর দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে মহালয়া উপলক্ষে চন্ডিপাঠের আয়োজন করা হয়। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মঙ্গলঘট স্থাপন, চন্ডিপূজা এবং ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দশভুজা দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আসার আমন্ত্রণ জানান। এ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালী বাড়ী মন্দিরের সভাপতি রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন মন্দিরে চন্ডিপাঠের আয়োজন করা হয়।


এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ২৮৫টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় ৩৫৩টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩২১টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ২৯৮টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২২৪টি এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯০টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অধিক নিরাপত্তার জন্য ১ হাজার ৭৭টি মন্দির সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এছাড়া মন্দির কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপশি আনসারসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।


ইতিমধ্যে মন্দিরগুলোতে বানানো প্রতিমায় চলছে রং তুলির শেষ কাজ। রং তুলির আচড়ে দেবী দূর্গার সাথে লক্ষী, গনেশ, কার্তিক ও সরস্বতির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃশ্যপট ফুটিতে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এসব প্রতিমা তৈরীতে দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমা শিল্পীদের।


এবছর জাঁক-জমকভাবে পূজার আয়োজন করতে ব্যস্ত রয়েছেন আয়োজকেরা। মন্দির সাজাতে, সড়কে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। দর্শনার্থীদের প্রতিমা ও পূজা দেখার ব্যবস্থা করছেন তারা।


শহরের বাজার সর্বজনীন কালি মন্দিরের পূরোহিত দীপংকর চক্রবর্তী বলেন, মহালয়ার মূল আচার হিসেবে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজার মধ্য দিয়ে চলে মহাশক্তি, মহামায়া, দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে নেমে আসার আহ্বান। পরে আবাহনী ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করা হয়। সুখী, শান্তিময় ও সমৃদ্ধশালী পুণ্যভূমির প্রার্থনা করা হয় দেবীর কাছে।


গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে আনসার বাহিনীর পাশাপশি অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ইতিমধ্যে অধিক নিরাপত্তার জন্য ১ হাজার ৭৭টি মন্দির সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?