- প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৬ এএম
বর্তমানে হতাশা যেন একটি নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে।
শহর থেকে গ্রাম, তরুণ থেকে বৃদ্ধ
মোঃ রাতুল হাসান
এক সময় মানুষ দুঃখ পেত নির্দিষ্ট কারণে—অভাব, অসুস্থতা কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষতিতে। কিন্তু বর্তমানে হতাশা যেন একটি নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম, তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সবাই কোনো না কোনোভাবে মানসিক চাপ ও হতাশার ভার বইছেন। প্রশ্ন হলো, কেন আজকের মানুষ এত বেশি হতাশ? আর এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী?
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত প্রত্যাশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন আমরা দেখি সফলতা, বিলাসিতা ও নিখুঁত জীবনের প্রদর্শনী। অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করতে গিয়ে অনেকেই নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করেন। অথচ সেই সফলতার পেছনের সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও কষ্টগুলো চোখে পড়ে না।
চাকরি অনিশ্চয়তা, ব্যবসায়িক ঝুঁকি—এসব কারণে মানুষের ভেতরে এক ধরনের স্থায়ী আতঙ্ক কাজ করছে। তরুণরা পড়াশোনা শেষ করেও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না, আর কর্মজীবীরা ভয় পাচ্ছেন আগামীকাল কী হবে তা নিয়ে। এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে হতাশার জন্ম দেয়।
একাকীত্ব বাড়ছে, যোগাযোগ কমছে
ডিজিটাল যুগে আমরা অনলাইনে যুক্ত থাকলেও বাস্তবে অনেকটাই একা। পরিবারে কথা বলার সময় কমে গেছে, বন্ধুত্বে গভীরতা হারাচ্ছে। মানুষ নিজের কষ্ট কাউকে বলতে পারছে না, ফলে ভেতরের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
কাজ, পড়াশোনা আর দায়িত্বের চাপে মানুষ নিজের জন্য সময় বের করতে ভুলে গেছে। মানসিক বিশ্রাম না পেলে হতাশা ধীরে ধীরে গভীরে প্রবেশ করে।
হতাশা থেকে বের হওয়ার উপায়
১. তুলনা কমাতে শিখুন
নিজের জীবনকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে, নিজের অগ্রগতির সঙ্গে তুলনা করুন। গতকাল আপনি যা ছিলেন, আজ তার চেয়ে এক ধাপ এগোলেই সেটাই সাফল্য।
২. কথা বলুন, চেপে রাখবেন না
নিজের কষ্ট বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করুন—বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সঙ্গে। কথা বলা মানেই দুর্বলতা নয়, বরং সাহস।
৩. ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
প্রতিদিন অল্প হাঁটা, নিয়মিত ঘুম, বই পড়া বা প্রার্থনা—ছোট ছোট অভ্যাস মানসিক শক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
৪. নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিন
সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়—এটা মেনে নেওয়াই মানসিক শান্তির প্রথম ধাপ।
৫. প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিন
হতাশা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হতাশা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনেরই একটি বাস্তব অংশ। তবে সঠিক সচেতনতা, সহানুভূতি ও মানসিক যত্নের মাধ্যমে এই অন্ধকার সময় পার হওয়া সম্ভব। মনে রাখতে হবে—আজকের কষ্টই চিরস্থায়ী নয়, আলো আসবেই।
এই বিভাগের আরো খবর
-
# এক শিক্ষকের নামই রয়েছে ৭ টি গবেষণাপত্রেরোকাইয়া: যবিপ্রবি প্রতিনিধি গবেষণাপত্রে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর গলাচিপায় জামায়াতের গণমিছিল হয়েছে।...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!