শিরোনামঃ

বরিশালে হামের প্রকোপ বাড়ছে, ৯ বছরেও চালু হয়নি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল


সাকিব উল হক 

বরিশাল প্রতিনিধি


বরিশালে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৩ জন শিশু।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে হাম সংক্রমণের উপসর্গে ভর্তি রয়েছে ৭৮ জন শিশু। এর মধ্যে ২০ জন ছাড়পত্র পেয়েছে। 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৬৯৭ জন। এর মধ্যে ৪০১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৫১ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভাগের সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে শিশুদের চিকিৎসার বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে শেবাচিম হাসপাতাল। হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৪৫টি। অথচ রোগীর চাপের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ শিশু চিকিৎসাধীন থাকে। এতে তীব্র শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে এবং অনেক শিশু কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছরেও চালু হয়নি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ সুকান্ত বাবু শিশু হাসপাতাল। জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় এক একর জমির ওপর ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ভিত্তিতে ৪ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ হাসপাতালটি দুই বছরের মধ্যে চালুর কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও তা চালু হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের কাজ বাকি রয়েছে। হাসপাতালটিতে জরুরি বিভাগ, রেডিওলজি, ডায়াগনস্টিক, আউটডোর, থেরাপি, প্যাথলজি, নিউনেটাল আইসিইউ এবং অপারেশন ব্লকসহ শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


চিকিৎসকদের মতে, বিশেষায়িত এ শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের শিশু চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্বস্তি আসবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?