শিরোনামঃ

বরিশালে চলাচলের পথ দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, বন্ধ করল সিটি করপোরেশন



নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল :


বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাউসিয়া সড়ক এলাকায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের মালিক শাওন খানের বিরুদ্ধে। এর ফলে এলাকার দীর্ঘদিনের একমাত্র যাতায়াতের পথ বন্ধ বা চরমভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্ল্যান শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নগরীর সাগরদী এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী বাড়ি মসজিদ গলির মোমেন উদ্দিন লেনে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাওন খান ওই এলাকায় জমি কিনে বসবাস করলেও সম্প্রতি তিনি প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তা জবরদখল করে পাকা বাউন্ডারি দেওয়াল তোলার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার তাঁকে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি।


প্রতিবেশী আবু বকর সিদ্দিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও শাওন খান কারও কোনো অনুরোধ না শুনে জোরপূর্বক চলাচলের পথ আটকে দেওয়াল নির্মাণ শুরু করেন। তিনি এর সুরাহা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


স্থানীয়রা আরও জানান, বহু বছর আগে ওই স্থানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের একটি ঢালাই করা রাস্তা ছিল। পরবর্তী সময়ে মাটি ভরাটের কারণে রাস্তাটি মাটির নিচে চাপা পড়ে গেলেও এলাকাবাসী নিয়মিত এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে আসছেন। অন্তত চার ফুট জায়গা ছেড়ে দেওয়াল নির্মাণের অনুরোধ জানানো হলেও জমির মালিক তা মানেননি।


আরেক প্রতিবেশী রেমিজা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় তিন ফুটের মতো জায়গা দখল করে দেওয়াল তোলায় রাস্তাটি এতটাই সংকুচিত হয়ে পড়ছে যে, জরুরি মুহূর্তে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবে না।


এলাকার সত্তরোর্ধ্ব এক বয়োবৃদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। এখন রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে হবে।


এদিকে, খবর পেয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্ল্যান শাখার একদল কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা প্ল্যান ছাড়াই রাস্তা দখলের দায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের মালিক শাওন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


তবে শাওন খানের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধি মোতালেব হাজী দাবি করেন, এখানে থাকা সম্পূর্ণ জায়গার মালিক শাওন খান। তিনি যদি সম্পূর্ণ রাস্তা বন্ধও করে দেন, তবুও কারও কিছু করার নেই; কারণ জমির আইনগত মালিক তিনিই।


জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ রক্ষায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও সরেজমিন পরিস্থিতি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপে এই বিরোধের স্থায়ী ও আইনসম্মত সমাধান চান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?