বরিশাল-১ আসনে জমে উঠছে নির্বাচনী প্রচারণা *ভাগ হতে পারে বিএনপি’র ভোট *ফ্যাক্ট সংখ্যালগু ও আ’লীগ ভোটার
হাসান মাহমুদ, গৌরনদী ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের প্রচার-প্রচারনায় জমে উঠছে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকা। প্রতিদিনই প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের সমর্থকরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারণার ৭ম দিন বুধবার (২৮ জানুয়ারী) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের হাজীপাড়া বাজারে সর্বস্তরের জনতার সাথে গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন-এবারের ব্যালটের মাধ্যমে আমরা সদ্য প্রয়াত আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে কবরে শান্তি দিতে চাই, আর দিল্লীতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে শিক্ষা দিতে চাই। ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করে নয়, অবাধ সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা দেশ নায়ক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে চাই। এই মুহুর্তে আমাদের দেশের সামনে, জাতীর সামনে তারেক রহমান ছাড়া অন্যকোন ভবিষ্যত নাই।
তিনি আরও বলেছেন-আমাদের নেতা তারেক রহমান যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন তার সুফল পেতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহবান জানান। একইদিন বিকেলে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি প্রচারণা চালান।
অপরদিকে ধানের শীষ মার্কার প্রতিদ্বন্ধি ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, দাড়ি পাল্লা মার্কার কামরুল ইসলাম খান, হাতপাখা মার্কার রাসেল সরদার মেহেদী ও সাইকেল মার্কার প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী প্রতিদিনই কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তবে ফুটবল মার্কার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে কয়েকবার নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা এবং তার কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তিনি তুলেছেন। এসব বাঁধা উপেক্ষা করেই তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নিরব ভোট বিপ্লবে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান বিজয়ী হবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে বসে নেই জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলণ বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী এবং জেপি’র সাইকেল মার্কার প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী। এ তিন প্রার্থীও প্রতিদিনই তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
ভাগ হতে পারে বিএনপি’র ভোট ॥ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বরিশাল-১ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি’র ভোট ভাগ হওয়ার আশংকা রয়েছে। এখানে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান। উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এ আসন থেকে পূর্বে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যে কারনে বিএনপি’র ভোট ভাগ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবহানের বাক্সে যাওয়ার আশংকা করছেন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা।
ফ্যাক্ট সংখ্যালগু ও আওমায়ী লীগের ভোটার ॥ এ নির্বাচনী আসনে সংখ্যালগু ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। একটি সংস্থার তথ্যমতে বরিশাল-১ আসনে প্রায় ৪০% সংখ্যালগু ভোটার রয়েছে। বিশেষ করে আগৈলঝাড়ায় সংখ্যালগু ভোটারের সংখ্যা বেশি। যেসব প্রার্থী সংখ্যালগু ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন সেই প্রার্থীই ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও এ দুই উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোন একক প্রার্থীকে ভোট প্রদান করলে ভোটের হিসেবে উল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এক্ষেত্রে সংখ্যালগু ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়াম লীগের ভোটাররা একটি ফ্যাক্ট হয়ে উঠছে।
স্বচ্ছ ভোট গ্রহনের প্রতিশ্রুতি ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহন সর্বোচ্চ পেশা দারিত্ব বজায় রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাচনী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইব্রাহীম। তিনি জানিয়েছেন-ভোটাররা যাতে নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত রয়েছি।