শিরোনামঃ

বরগুনায় খাল থেকে ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, মিলেনি মাথার সন্ধান



সোহাগ হাওলাদার, বরগুনা: 

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না এলাকায় একটি খাল থেকে মো. শামীম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটির কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান মেলেনি।

নিহত শামীম গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা মো. মনসুর আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি স্থানীয় গৌরীচন্না বাজারে হাঁস-মুরগির ব্যবসার পাশাপাশি জমি কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 


সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন গৌরীচন্না খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় শামীম বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশে বের হন। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। 


সোমবার সকালে শামীমের ছোট ভাই সোহেল গৌরীচন্না বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কয়েকজন জানান, রাতে বাজারসংলগ্ন একটি ব্রিজের পাশে শামীমকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল রক্তের দাগ ও একটি জুতা দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। 


পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

নিহতের ছোট ভাই সোহেল বলেন, “রাতে খবর পাই বড় ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, তাকে ব্রিজের পাশে দেখা গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিই। পরে খাল থেকে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 


বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক বলেন, “পুলিশের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় পটুয়াখালীর ডুবুরি দলকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে এর আগেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাল থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। 


বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সকালে খবর পাই শামীম নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে রক্তসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় রক্তের দাগ ও একটি জুতা উদ্ধার করা হয়, যা নিহতের পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ মাথাটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?