শিরোনামঃ

আপত্তিকর অবস্থায় বৃদ্ধ আটক  বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে  মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বরিশালের উজিরপুরে মধ্য বয়স্কা নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ছালেক হাওলাদারের (৬১) নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটক বৃদ্ধ প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় দিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দোসতিনা গ্রামের। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুঠিয়া ইউনিয়নের দোসতিনা ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদস্য মো. রফিকুল সরদার অভিযোগ করে বলেন, আমি গাছের ব্যবসা করি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দোসতিনা গ্রামের বৃদ্ধ সালেক সরদারের বাড়ির পিছনে শ্রমিকদের নিয়ে গাছ কাটছিলাম। এরইমধ্যে স্থানীয় ৭/৮ জন আমাকে সালেক হাওলাদারের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় এবং জানায় যে, সালেক হাওলাদার তার বসতঘরের দরজা বন্ধ করে এক নারীর সঙ্গে অবৈধ কর্মে লিপ্ত রয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা ঘটনার সত্যতা পাই। এসময় উত্তেজিত জনতা সালেকের বসতঘর থেকে ঝালকাঠী সদর উপজেলার মধ্য বয়স্কা এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় সালেককে আটক করে। 

সালেক হাওলাদারের ভাতিজা স্থানীয় জামায়াত নেতা হাসেন হাওলাদার লালু বলেন, অনৈতক কাজ করার সময় স্থানীয় জনতা আমার চাচাকে নারীসহ আটক করে আমাকে খবর দেয়। পরবর্তীতে আমি ঘটনাস্থলে গেলে চাচা তার ইজ্জত রক্ষার জন্য আমাকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয়। এমনকি আটক নারী তার সংসার রক্ষার জন্য অনুরোধ জানায়। এছাড়াও তারা এই কাজ আর কখনো করবেনা বলেও উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আমার চাচা এবং ওই নারীকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।  

অভিযোগ করে জামায়াত নেতা লালু বলেন, আমার চাচা জনতার হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পর আমাকে সহ ৫জন বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় নাটকীয় মামলা দায়ের করেন। তার নাটকীয় মামলার আসামী হয়ে আমরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সালেক হাওলাদার কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে (সালেক) আগে আওয়ামী লীগ করতো। বিগত নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর পক্ষে সক্রিয় ভাবে কাজ করেছে। 

গুঠিয়া ৬নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত কর্মী নারীসহ আটকের খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতাও পাই। পরবর্তীতে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। চলে আসার পর সালেক হাওলাদার আমাদের ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় নাটকীয় মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে অনেক মিথ্যে মামলার আসামী হয়েছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও মিথ্যে মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

শনিবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন দোসতিনা গ্রামে গেলে অসংখ্য নারী-পুরুষ বৃদ্ধ সালেক হাওলাদারের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা নারীসহ বৃদ্ধ সালেককে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। 

এবিষয়ে বৃদ্ধ সালেক হাওলাদার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে টাকা-স্বর্নালংকার লুটপাট করেছে। এজন্য ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। 

এবিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধ সালেক হাওলাদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধিন রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?