শিরোনামঃ

আন্দোলনকারীদের হামলায় শেবাচিমে চিকিৎসকসহ আহত ৩, কর্মবিরতিতে চিকিৎসকরা


শাকিব উল হক

বরিশাল প্রতিনিধি


বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলায় এক চিকিৎসকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর জেরে নিরাপত্তাহীনতায় কারন দেখিয়ে দুপুর ২টা থেকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন চিকিৎসকরা।


টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫টা থেকে পুলিশি পাহারায় জরুরি সেবা চালু করা হয়। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মিছিল নিয়ে অবস্থান নেয়।


হাসপাতাল স্টাফদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এসময় মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. দিলীপ রায়কে টেনে-হিঁচড়ে বেদম মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। একইসঙ্গে ইটপাটকেল নিক্ষেপে হাসপাতালের স্টাফ বাহাদুর ও আরও একজন আহত হন।


হাসপাতালের মিড লেভেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শাখাওয়াত হোসেন সৈকত বলেন, “আমাদের এক চিকিৎসকের মাথা ফাটানো হয়েছে, আরেকজনের পায়ে পেটানো হয়েছে, একজন স্টাফকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছি। তবে পুলিশি নিরাপত্তা ও পরিচালক মহোদয়ের অনুরোধে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিকেল ৫টা থেকে শুধু জরুরি সেবা চালু রেখেছি।”


ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এর আগেও (১৪ আগস্ট) নিরাপত্তাহীনতার কারণে কর্মবিরতি দিয়েছিলেন তারা। তখন হাসপাতাল পরিচালকের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পুনরায় হামলার ঘটনায় তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুপুরে চিকিৎসকরা ভয়ে কর্মস্থল ছেড়ে চলে গেলে রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে কান্নাকাটি করছিলেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় কিছু চিকিৎসককে ফিরিয়ে এনে বিকেল ৫টা থেকে জরুরি সেবা চালু করা হয়েছে।”


অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হাসপাতালের স্টাফরা হামলা করেছিলেন। তারই প্রতিবাদে তারা মিছিল নিয়ে হাসপাতালের সামনে আসেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাতে হাসপাতালের ভেতর থেকে মুখোশধারী কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র হাতে গালিগালাজ করেন। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন বলেন, “কিছু লোক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করলেও আমরা তা নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ শান্ত।”


আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি জানান, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?