শিরোনামঃ

আলীনগরে চাঁদা দাবি ও মারধরের মামলায় ইউপি সদস্য মাকসুদসহ ৪ ভাই কারাগারে


স্টাফ রিপোর্টার।।

ভোলায় চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং এক রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারকে বেধড়ক মারধরের চাঞ্চল্যকর মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমানসহ তাঁর চার ভাইকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ভোলার আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন, ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আঃ হাইয়ের চার ছেলে ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও আ’লীগ নেতা মো. মাকসুদুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ (৪২), মো. মাহফুজুর রহমান (৩৫), মো. নাজিম (৩৭)।

মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. দুলাল (৪৮) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির ঠিকাদার। ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলীনগর ইউনিয়নের ব্যাপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে তালতলী বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আসামিরা তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দুলাল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। তৎকালীন সময়ে আসামিরা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করায় ভয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভুক্তভোগী দুলাল বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী মো. দুলাল বলেন, "প্রভাবশালী আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোয় আমি বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনন্দিত। আমি এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অত্যাচার করার সাহস না পায়।"

অভিযুক্তদের অপরাধের চিত্র ও একাধিক মামলা

অনুসন্ধান ও থানা সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভোলা সদর থানায় মারামারি, দাঙ্গা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে (যেমন: এফআইআর নং-৪, তারিখ: ০২/০৩/২০১৮; এফআইআর নং-৭৫, তারিখ: ২৯/০৪/২০০৯)। এছাড়া গাজীপুর সদর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

এলাকার একাধিক সূত্রের দাবি, ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে আসছিলেন।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাকসুদুর রহমান আত্মগোপনে ঢাকার গাজীপুরে চলে যান। সেখানে সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক নারীর সাথে পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় প্রায় তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভোলায় পালিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে সাবিনা ইয়াসমিন খোঁজ নিয়ে ভোলায় মাকসুদের বাড়িতে এলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিন (২৯) বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যতম আসামি মো. ফরিদ এবং মো. নাজিমের বিরুদ্ধেও ভোলা সদর থানায় ২০০৬ ও ২০০৯ সালের একাধিক দাঙ্গা ও জখমের মামলা (এফআইআর নং-৩৪ ও ৭৫) রয়েছে।

এদিকে, মাকসুদ মেম্বারের ভাই মো. রাসেল এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ইতিপূর্বেও পুলিশ তাঁকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করেছিল এবং তিনি মাদক মামলায় জেল খেটেছেন।

৪ ভাইকে একসাথে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় আলীনগর ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?