শিরোনামঃ

আগস্টে চালু হচ্ছে বরিশাল শিশু হাসপাতাল, দালাল চক্র দমনে কঠোর নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর



সাকিব উল হক

বরিশাল



বরিশালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে আগামী ১ আগস্টের মধ্যে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (১১ মে) দুপুরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু কমাতে দ্রুত শিশু হাসপাতাল চালু করা জরুরি। এজন্য হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত চাহিদার তালিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হাসপাতালটির জন্য ১০টি নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, একটি সিটি স্ক্যান মেশিন, দুটি এক্স-রে মেশিন, একটি পোর্টেবল এক্স-রে, ২০টি কার্ডিয়াক মনিটর, ১০টি ফটোথেরাপি মেশিন ও ১০টি ওয়ার্মার প্রয়োজন হবে। এসব সরঞ্জাম জুলাইয়ের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু যন্ত্রপাতি টেন্ডারের মাধ্যমে এবং কিছু স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হবে। অর্থসংকট দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি দ্রুত জনবল নিয়োগের কাজও সম্পন্ন করা হবে।

পরিদর্শনকালে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংকট নিরসনে দুই ধাপে পাঁচজন করে মোট ১০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই সফরে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দালাল চক্রের সক্রিয়তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি বরিশাল সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছিলাম। তাই সরাসরি পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ক্যানসার হাসপাতাল ও শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি।”

তিনি জানান, জেনারেল হাসপাতালে একজন কর্মীকে অনুপস্থিত পাওয়া গেলে এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তার চাকরি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের দেরিতে আসার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্রের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় কিছু ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত দালালরা রোগীদের প্রলুব্ধ করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সক্রিয় সব দালালকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, সিভিল সার্জন মঞ্জুর এ এলাহী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন দফায় প্রকল্পটিতে মোট ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এ সংকট সমাধানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?