শিরোনামঃ

যুবদল নেতার ছেলের  মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে  রহস্য


নিজস্ব প্রতিবেদক :

শীর্ষ ইয়াবা কারবারির বাসায় গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি অনিম সরদার (২২)। রক্তে ভেজা কফিনে ফিরেছে তার লাশ। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের। নিহত অনিম উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক স্বপন সরদারের একমাত্র ছেলে। ঘটনার দিন রাতে টরকী নিলখোলা এলাকার একটি সিসিটিভির ফুটেজ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, হীরা মাঝির সহযোগী শাওন দেওয়ান মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। আর মাঝে এক যুবক এবং পিছনে এক নারী আরোহীকে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে নিহতের পরিবার থেকে মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে দাবী করা হচ্ছে। 

যুবদল নেতা স্বপন সরদার অভিযোগ করে বলেন, মোটরসাইকেলের মাঝে ছিলো তার ছেলে অনিম। ফুটেজটি অস্পষ্ট হলেও মনে হচ্ছে, মৃত কাউকে মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যুবদল নেতা স্বপন সরদার অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ২২ জুন তার ছেলে অনিম সরদারকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ মাদক কারবারি হীরা মাঝির সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী শাওন দেওয়ান। অনিম সুস্থ সবল ভাবে বাসা থেকে বের হলেও সে আর প্রান নিয়ে বাসায় ফিরতে পারেনি। ঘটনার দিন রাতে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিলো অনিম মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছে। অথচ ঘটনাস্থলে গিয়ে দূর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল কিংবা দূর্ঘটনার কোন আলামত পাইনি। ২৩ তারিখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় অনিম। তিনি আরও বলেন, হীরা মাঝির পুরো বাসা সিসিটিভির ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ঘটনার পর থেকে সিসিটিভি’র ফুটেজ ঘায়েব হয়ে গেছে। এতে মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এতোদিন আমার পুরো পরিবার মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিলাম। এখন আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছি। তবে এরপূর্বে একটি সাক্ষাতকারে শীর্ষ মাদক কারবারি হীরা মাঝি জানিয়েছিলেন, অনেকদিন যাবত আমার বাসায় সিসিটিভির লাইন নেই। সিসিটিভির ফুটেজ গায়েবের বিষয়টি সঠিক নয়। মূলত ওইদিন নীলখোলা থেকে আমাদের পুরোনো বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয় আমার স্ত্রী, মোটরসাইকেল চালক শাওন ও অনিম সরদার। খবরপেয়ে তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরমধ্যে অনিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং আমার স্ত্রী ও মোটরসাইকেল চালক শাওন বরিশালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এবিষয়ে নিহতের পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন থানা পুলিশ।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?