- প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:৫১ পিএম
গোলপাতার ছাউনি, সবুজের আলিঙ্গন—খুবির অনন্য ক্যাফেটেরিয়া
খুবি প্রতিনিধি: সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি
ইট-পাথরের কাঠামোর ভিড়ে হঠাৎ যদি চোখে পড়ে গোলপাতার বিস্তৃত ছাউনি, চারপাশে সবুজ আর পাশে নিস্তরঙ্গ জল—তবে বুঝতে হবে আপনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আধুনিক ক্যাম্পাসের ভেতর গ্রামবাংলার আবহ ফিরিয়ে আনার সাহসী প্রয়াসেই নির্মিত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের গোলপাতা-নির্মিত নান্দনিক ডিজাইনের সর্ববৃহৎ এই ক্যাফেটেরিয়া।
১০৬ একরজুড়ে বিস্তৃত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটি কেবল খাবার গ্রহণের জায়গা নয়; এটি যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। একসময় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আর্থিক টানাপোড়েনে ঘর তৈরির উপাদান ছিল যে গোলপাতা, আজ তা নান্দনিক স্থাপত্যের অংশ হয়ে নতুন পরিচয়ে হাজির। সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিক ভাবনায় রূপ দেওয়া হয়েছে এই ক্যাফেটেরিয়ার নকশায়।
ত্রিভুজাকৃতির সামনের ও পেছনের গঠন, উঁচু ছাউনি আর খোলামেলা পরিবেশ স্থাপনাটিকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। পেছনে হোগলাবন, উত্তরে বাঁশঝাড়, আর একপাশে ছোট পুকুরে ফুটে থাকা পদ্ম-শাপলা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নিজেই সাজিয়েছে ক্যাফের চারপাশ। সকালবেলার নাশতা থেকে রাতের খাবার—সবই মিলছে এখানে। দামও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যেই থাকে।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহম্মেদ বলেন, “ক্যাফেটেরিয়া আমাদের ক্যাম্পাস লাইফের কেন্দ্রবিন্দু। আড্ডা, সংগঠনের মিটিং, ক্লাবের কার্যক্রম—সবকিছুই এখানে ঘিরে হয়। বাইরের অনেক মানুষও ঘুরতে আসে, তাই এটাকে আমরা এক ধরনের ট্যুরিস্ট স্পটই বলি।”
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বসু জানান, “এখানে খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা আলাদা। পাশের পুকুরে লাল পদ্ম ফুটে থাকে, চারপাশে সবুজ—এই পরিবেশে বসে খাবার খাওয়া সত্যিই উপভোগ্য। খাবারের মান ভালো, দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।”
এই ব্যতিক্রমী স্থাপনাটির নকশা প্রণয়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম এবং সহকারী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম। গোলপাতার ছাউনি ব্যবহারের ভাবনা আসে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের কাছ থেকে। সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ বনজ সম্পদ গোলপাতা দিয়ে নির্মিত এই কাঠামোকে দেশের মধ্যে এ ধরনের সবচেয়ে বড় স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একসঙ্গে দুই শতাধিক মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সামনের অংশ মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য, আর পেছনের অংশ শিক্ষক ও কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে ক্যাফেটেরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের পাশাপাশি বাইরের দর্শনার্থীরাও নিয়মিত এখানে আসেন।
সব মিলিয়ে, খুবির গোলপাতার ক্যাফেটেরিয়া কেবল খাদ্যসেবা কেন্দ্র নয়; এটি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে নির্মিত এক নান্দনিক স্থাপত্য, যা ক্যাম্পাস জীবনে যোগ করেছে স্বতন্ত্র এক মাত্রা।
এই বিভাগের আরো খবর
-
খুবি প্রতিনিধি: সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামিইট-পাথরের কাঠামোর ভিড়ে হঠাৎ যদি চোখে পড়ে গোলপাতার বিস্তৃত ছাউনি, চারপাশে সবুজ আর পাশে নিস্তরঙ্গ...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে অবস্থান নিয়ে আনশন শুরু করেছে দুই সন্তানের জননী পলি খানম...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নষ্ট হওয়া লিফট...
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর। রংপুরে ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখল নিয়ে বেডরুমে গিয়ে স্ত্রীসন্তানসহ গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় জামিন পেয়েছেন বহিস্কৃত যুবদল...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!