ভোলায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন



ভোলা: ভোলা সদর উপজেলার ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হাসান রিপন একই ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।


বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ইউনিয়নের বাঁধের পাড় বাজার এলাকায় তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, গেল রোববার বিকেলে ছাত্রদল নেতা হাবিব ও তাঁর দলীয় কর্মীরা তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনিসহ তাঁর দলীয় এক কর্মী আহত হন। এরপর উক্ত ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদেরকে জানানো হলে তাঁরা বিষয়টি মিমাংসা করার আশ্বাস দেন।


কিন্তু, রিপনের অভিযোগ হাবিব স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সেই কথা তোয়াক্কা না করে ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। এরপর এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাকে (রিপন) পুলিশ দিয়ে আটক করেন। তিনি ৭ ঘন্টা থানায় আটক ছিলেন।


তাঁর অভিযোগ তুচ্ছ ঘটনার আগের দিন হাবিবের ছোট ভাই শামীম হাওলাদার বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। মাথায় একাধিক সেলাই করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সেই শামীমকে ভিক্টিম বানিয়ে হাবিব রিপনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ দিয়ে তাকে আটক করে হয়রানি করেছেন। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে হাবিবের বিরুদ্ধে জমি জবরদখলসহ নানান অভিযোগ তোলা হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রোববার রাতে মাহমুদুল হাসান রিপন তাঁর দলীয় একাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তাঁর দোকানে হামলা চালায়। তাঁর মুদি দোকান ভাংচুর করে লুটপাট চালায় এবং তাকেসহ ৩ থেকে ৪ জনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাঁর মুখে এবং চোখের নিচে জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপনকে আটক করে হেফাজতে নেয়। প্রায় ৭ ঘন্টা আটক থাকার পর থানা থেকে তিনি ছাড়া পান।


হাবিবুর রহমান হাবিব নামের এই নেতা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। তাঁর দাবি রিপন রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে নানান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। শামীম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকে ভিক্টিম বানিয়ে রিপনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা বলে তিনি দাবি করছেন।


এদিকে, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বাঁধের পাড় এলাকায় বড় ধরনের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়রা দলের সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?