শিরোনামঃ

টিসিবির চালসহ ট্রলি উল্টে পড়ে খালে কার্ডধারীদের কাছে ভেজা পচা চাল বিক্রির অভিযোগ


নলছিটি(ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটিতে টিসিবি'র কার্ডধারীদের কাছে ভেজা ও পচা চাল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ডিলারের বিরুদ্ধে।  পণ্য (চাল) ক্রেতারা প্রতি কার্ডে ৫( পাঁচ )কেজি করে ভেজা চাল কিনে বাড়িতে নিয়ে শুকানোর পর ওজনে ৪ কেজি চাল পেয়েছেন বলেও অভিযোগ ।‍‍

পণ্য ক্রেতাদের অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নে বর্তমানে এক হাজার ৫৯৪ জন টিসিবি'র কার্ডধারী একটিভ রয়েছেন। স্বত্বাধিকারী জিএম মোর্শেদের সরদার এন্টারপ্রাইজ নামক লাইসেন্সে  মাসুদ জোমাদ্দার ও আব্দুল আলিম নামের দুই ব্যক্তি ওই ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য বিক্রির সাব ডিলার হিসেবে কাজ করেন। শনিবার (২৮জুন)  বিক্রির জন্য  দুইটি ট্রলি ভর্তি টিসিবি'র পণ্য (চাল)কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়ার পথে আখরপাড়া নামক স্থানে একটি ব্রিজ পার হওয়ার সময় একটি ট্রলি উল্টে পার্শ্ববর্তী খালে পড়ে যায়। ওই ট্রলিতে ১৬৫ বস্তা চাল ছিল। পরে খাল থেকে বস্তাভর্তি ভেজা চাল তুলে বিক্রির স্থানে( ইউপি কার্যালয়ে)নেওয়া হয়। এ সময় কার্ডধারীরা ভেজা চাল নিতে রাজি না হলেও তাদেরকে ওই ভেজা চালই ওজন করে দেওয়া হয়।  অবিক্রিত বাকি  চাল কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একটি কক্ষে রেখে শুকানোর চেষ্টা করা হয়। পরে রোববার ও সোমবারও (২৯ ও ৩০ জুন) কার্ডধারীদের কাছে ওই ভেজা ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা চালই বিক্রি করা হয়।  এতে ৫ পাঁচ কেজি  করে ভেজা চাল কিনে বাড়িতে নিয়ে শুকানোর পর ওজনে ৪ কেজি চাল পান ক্রেতারা। টিসিবির পণ্য ক্রেতা পাওতা গ্রামের আবুল কালাম জানান, দুইদিন আগে পানিতে পড়ে ভেজা, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল আমাদের  কাছে বিক্রি করেছেন টিসিবি ডিলার। যা খাওয়ার মত না। হাঁস মুরগিকে খাওয়াবো। এখনও সে চাল ঘরেই আছে। তিনি আরও জানান, কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের মধ্যে ভেজা চাল শুকানো হয়। বিক্রির সময় ওই চালে দুর্গন্ধ ছিল।

কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আরিফ মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি ডিলেরদেরকে ওই ভেজা চাল বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু  তারা সে কথা শোনেননি। দুইদিন ইউনিয়ন পরিষদে রেখে ওই চালই টিসিবি'র  কার্ডধারীদের কাছে বিক্রি করেছেন সাব ডিলার।

টিসিবির সাব ডিলার  আব্দুল আলিম বলেন, নিয়মানুযায়ী ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে  বিক্রয় কেন্দ্রে আমাদের কাছে চাল পৌঁছানোর  কথা।  কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা গোডাউন থেকে চাল নেওয়ার পথে শনিবার ১৬৫ বস্তা চালসহ  ট্রলিটি খালে পড়ে যায়।এটি একটি দুর্ঘটনা। তাৎক্ষণিক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ( ইউএনও ও  খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে( ওসি এল.এস.ডি) জানাই। তারা বলেন, ভেজা চাল গোডাউনে ফেরত পাঠালেতো  নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের সম্মতিতেই ওই ভেজা চাল কার্ডধারীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

নলছিটির ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিস্তারিত জেনে বলতে পারব। তবে টিসিবি'র চালসহ  একটি গাড়ি  খালে পড়েছে শুনেছি।‍ চাল নাকি ভালো ছিল। চাল ভালো থাকলেতো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?