- প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪১ পিএম
সুন্দরগঞ্জে তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় কাজী আব্দুল হাই
আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে প্রবাসী স্বামীর তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন স্ত্রী মোছা. রেখা বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী দাবি করেছেন, স্বামী দেশে এসে তাঁর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।
রেখা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনে সংসারের অভাব দূর করতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে বিদেশে পাঠান তিনি। পরে মিজানুর রহমান দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে আবার বিদেশে চলে যান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে রেখা বেগম স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
রেখা বেগম জানান, সম্প্রতি তিনি তালাকের নোটিশ পান। তাঁর দাবি, স্বামী বর্তমানে বিদেশে থাকায় নোটিশে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে স্বামীর স্বাক্ষর জাল করে নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রেখা বেগম বলেন, “বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এত কষ্ট করার পরও তালাকের নোটিশ পেয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে তালাকের নোটিশের সত্যতা জানতে স্থানীয় কয়েকজন কাজী আব্দুল হাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে এক যুবক তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তালাকের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাজী চার দিন সময় নিয়েছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী আব্দুল হাই বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিজানুর রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাক্ষর দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।”
এর আগে কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক ব্যক্তির নামে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগও উঠেছিল। তবে ওই অভিযোগের তদন্ত বা আইনগত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী রেখা বেগম নিজাম খাঁ গ্রামের মো. তসলিম উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর স্বামী মিজানুর রহমান খোঁদ্দা গ্রামের সাহেব উদ্দিনের ছেলে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
সতচেতন মহলের দাবি, তালাকের নোটিশের মূল কপি, স্বাক্ষরের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, কাজী আমাকে একটি তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন। যেখানে একই নোটিশে তিন তালাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ যা আমার জানামতে বিধির বাইরে।
এবিষয়ে জানতে গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহুরুল ইসলাম এর ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সুবিধাবঞ্চিত মান্তা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বরিশালে পলিসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।...
-
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোনে চলাচলকারী শত শত যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব যানবাহনে বাধ্যতামূলক...
-
দেশীয় আসবাবশিল্পের আধুনিক নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!