শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিনে ৯৫টি অচল মেশিন সচল


শাকিব উল হক

বরিশাল প্রতিনিধি 


শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিনে ৯৫টি অচল মেশিন সচল করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) থেকে আসা সাত সদস্যের কারিগরি টিমের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়।


হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীরের উদ্যোগে গত সপ্তাহে নিমিউ অ্যান্ড টিসি থেকে প্রথমে পাঁচ সদস্যের একটি কারিগরি টিম এসে মেশিনগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষা করে। পরে হাসপাতালের নিজস্ব টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আরও দুইজন টেকনিশিয়ান যুক্ত করে সাত সদস্যের টিম গঠন করা হয়।


আজ শনিবার তারা জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের রেডিওলজি, প্যাথলজি, সিসিইউ, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, চক্ষু, সার্জারি ও নাক-কান-গলা বিভাগে ব্যবহৃত ৯৫টি মেশিন সচল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।


কারিগরি টিমের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, ৬টি অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন, ২৫টি সাকশন মেশিন, ১০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ৫টি অটোক্লেভ, ১টি সি-আর্ম মেশিন, ২টি মনিটর, ৮টি ওটি টেবিল, ৫টি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, ১০টি হাই ফ্লো নাসাল ক্যানুলা, ৫টি আইসিইউ বেড, ৬টি ওটি লাইট, ৫টি ডেন্টাল ইউনিট, ২টি ডায়াথার্মি মেশিন, ৪টি ইসিজি মেশিন ও ১টি এক্সরে মেশিনসহ মোট ৯৫টি মেশিন সচল করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, ইকো, কার্ডিয়াক ডিফাইব্রিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, ক্যাথল্যাব (এনজিওগ্রাম), সিটি স্ক্যান, চোখের লেসিক ও ফ্যাকো, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি), ইউরোলজি লিথোরিপটর, এন্ডোসকপি ও এক্সরে মেশিনসহ আরও অন্তত ২০টি মেশিন মেরামতের প্রক্রিয়া চলছে। এসব যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে সময় লাগবে।


হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মিথুন রায় বলেন, “এখন মেশিনগুলো সচল হওয়ায় রোগীরা যেমন সেবা পাচ্ছেন, তেমনি আমরা সেবা দিতেও সুবিধা পাচ্ছি।”


এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দীর্ঘদিন অকেজো থাকা মেশিনগুলো সচল করা হয়েছে। এখন রোগীর সেবায় এগুলো কাজে লাগছে। তবে আরও কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এমআরআই, ক্যাথ ল্যাব ও সি-আর্ম মেশিন হাসপাতাল পাবে।”


তিনি আরও বলেন, “আমাদের সফলতার কথা কেউ বলে না। সেবা জোর করে হয় না, ভালোবাসা দিয়ে নিতে হয়। জনবল কম থাকলেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করছি। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”


এদিকে, হাসপাতালের শতাধিক মেশিন সচল হওয়ায় এখন থেকে বাইরের ল্যাবের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে হাসপাতালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা বাহিরের ল্যাবের দালালদের দৌরাত্মও কমে যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?