শিরোনামঃ

সচিবালয়ের সামনে জুলাই যোদ্ধাদের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা, আহত-৩


আব্দুল্লাহ আল মানছুরঃ



আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, এমআইএস (MIS) অন্তর্ভুক্তি এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 


৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) মন্ত্রণালয়ের সামনে আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার শিকার হয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ৩ জন দায়িত্বশীল সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।



আহতরা হলেন—মো. সাগর উদ্দিন, আল-আমিন ও সোহাগ। ঘটনার পরপরই তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের অমীমাংসিত দাবি আদায়ে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, "আমরা জুলাই যোদ্ধা সংগঠন"-এর শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে একদল নেতা-কর্মী অতর্কিত এই হামলা চালায়।



প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, হামলায় অংশ নেওয়া ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে লিটন, শফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, সোহাগ, হিল্লুল, আমিনুল ইসলাম ইমন এবং আল মেরাজসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।



বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কর্মসূচি শুরুর আগের দিন (২ নভেম্বর) থেকেই আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করতে এবং জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে বিভেদ তৈরি করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনার সামনে বিভিন্ন  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।



আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের এই কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং এটি শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার, স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্ল্যাটফর্ম। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ যোদ্ধাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি জানানো হয়েছে: ১. হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা।


২. মন্ত্রণালয় ও আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, ভিডিওচিত্রসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলামত অবিলম্বে সংরক্ষণ করা।


৩. চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


৪. প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই দ্রুত সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা।


সংঘাত নয়, ঐক্য এবং রক্তের মর্যাদা রক্ষার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?