শিরোনামঃ

সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা; মধ্যরাতে কবর খুঁড়ে দাফন করলেন মেয়ে ও বোনেরা




 জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিবেদক:


পিরোজপুরের জিয়ানগরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গোপনে তার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।


পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।  তবে তার দাফনে ভয়ের কারনে স্থানীয় লোকজন এবং কোন মুক্তিযোদ্ধারাও আসেননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।


মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। মৃত্যুকালে মানিক পশারী এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে তিন মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মানিক পশারী মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দাফনের জন্য মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতালিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পিরোজপুর শহরে বাধার মুখে পড়েন স্বজনেরা। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন লোক ও জামায়াতে ইসলামীর সমার্থকরা বাধা দেন।


পরে পুলিশ মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। সেখানে সাঈদীর অনুসারী ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিকেলে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


মানিক পশারীর মেয়ে সুমি বেগম জানান, শনিবার দুপুরে তার বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। তবে বিকেলে কয়েকজন এসে সেখানে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে কবরটি ভরাট করে দেন। পরে তিনি ও তার দুই ফুফু গভীর রাতে মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে নিজেরাই কবর খোঁড়ে তার পিতাকে দাফন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। 


  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন,  মানিক পশারী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।  তিনি একজন মুসলমান। তার দাফনে বাধা দেওয়া আসলে ঠিক হয়নি।  মৃত্যুর পর একজন মানুষের উপর কোন রকম ক্ষোভের বহি:প্রকাশ থাকা ঠিক না।


অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী তাদের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন তার দাফনে বাধা দিলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাফনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।


পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে চিতালিয়া গ্রামে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।


মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর মুখ্য বিচারিক আদালতে সাঈদীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলায় মানিক পশারী ৬ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।




 

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?