শিরোনামঃ

অভ্যন্তরীণ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ও টেকসই পুনর্বাসন; সমন্বিত স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালীকরণ



স্টাফ রিপোর্টার 

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫,দশমিনা,পটুয়াখালী ; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের বিশেষ করে দেশের  উপকূূলীয় অঞ্চলসমূহ ঘূর্নিঝড়,জলোচ্ছাস, লবনাক্ততাবৃদ্ধি, নদী ও উপকূলীয় ভাঙ্গনের কারণে ক্রমাগত বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা হারিয়ে নিজ এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এই জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি একটি গভীর মানবিক, সামাজিক ও উন্নয়নগত সংকট। বাস্তুচ্যুতি এই জনগোষ্ঠী শহরের বস্তি বা ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে তাদের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা মারাক্তকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আজ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত, অভ্যন্তরীণ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ও টেকসই পুনর্বাসন; সমন্বিত স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালীকরণ,, শীর্ষক সেমিনারে বক্তরা এসকল বিষয় উত্থাপন করেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন সিসিআর প্রকল্পের নাগরিক কমিটির সভাপতি পিএম রাইহান বাদলের সঞ্চলনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার দশমিনা,  এবং সভাপতিত্ব করেন মোঃ জাফর রানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দশমিনা, ও  মোসাঃ সাবিহা সুজানা সহকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দশমিনা। এছাড়াও সেমিনারে রনগোপালদী আবাসন প্রকল্প, আলীপুরা আবাসন প্রকল্প, কাটা খালী আবাসন প্রকল্প ও চরহাদী আবাসন প্রকল্পের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশা শ্রেনীর লোকজন অংশগ্রহন করেন।

কোস্ট ফাউন্ডেশন সিসিআর প্রকল্পের গঠনকৃত জলবায়ু বাস্তচ্যুতি কমিটির সদস্যরা দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন, প্রোগ্রাম অফিসার আতিকুর রহমান প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তা বর্ননা করেন,

আবাসন প্রকল্পগুলোতে বসত ঘরের টিনের চাল,ভাঙ্গা বেড়া ও জানালা গুলো জরাজীর্ন অবস্থায় আছে, যা পলিথিন দিয়ে কোনোমতে টিকে আছে। শিক্ষা স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বা ঘর বিক্রি হয়ে গেছে, ফলে প্রকৃত ভূমিহীনরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন আবাসন থেকে আসা জলবায়ু বাস্তুচ্যুতিরা অভিযোগ করেন স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বা ঘর বিক্রি হয়ে গেছে, ফলে প্রকৃত ভূমিহীনরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কাটাখালীর আবাসনের স্থায়ী বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আবাসনগুলোতে অনেক পরিবার সরকারি খাসজমিতে বসবাস করলেও এখনো জায়গার বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।


জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এবং এদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রস্তাবনা সমূহ : ১। বাস্তুচ্যুতির হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ও অভিযোজন মূলক উভয় ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে ২। প্রতিটি আবাসনের ঘরগুলোকে নতুন করে মেরামত করে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। ৩। নিরাপদ পানির জন্য নলকুপগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪। আবাসনগুলো থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে হবে ৫। আবাসনে বসবাসকৃত বাস্তুচ্যুতিদের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করে সার্বিক ও মানসিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে ৬। সমাজের মূল স্রোতধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে ৭। আবাসনে শিশু বিবাহ ও যৌতুক ও নারী নির্যাতন রোধ করতে উন্নয়নমূল কর্মকান্ড চলমান রাখতে হবে ৯। পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ জনগনের কার্যকরী অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?