শিরোনামঃ

লিবিয়ায় বন্দি বরিশালের অর্ধশতাধিক যুবকের স্বপ্ন


গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:


বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক যুবকের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন এখন লিবিয়ায় বন্দি হয়ে পড়েছে। জিম্মিদশায় তারা সেখানে মানববেতর ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। এরমধ্যে জিম্মিদশা থেকে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোটা অংকের মুক্তিপণ দিয়ে লিবিয়া থেকে ১৫ যুবক দেশে ফিরেছেন। 



সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট ডুমুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান খান ও গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা মাদারীপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ এবং পশ্চিম সমরসিংহ গ্রামের আব্দুর রহিম সরদার বাদি হয়ে মানব পাচার চক্রের ৫ সদস্য’র নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ সদস্যকে আসামি করে বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। 



ট্রাইব্যুনালের বিচারক নালিশী অভিযোগ তিনটি আমলে নিয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে মামলা রুজু (নথিভূক্ত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। 



মামলায় গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের জামাল মোল্লা এবং তাঁর ইতালি প্রবাসী দুই ছেলে জাকির মোল্লা ও সাকিব মোল্লা, জামাল মোল্লার দুই শ্যালক বাবুল বেপারী ও ইউপি সদস্য হাবুল বেপারীকে আসামি করা হয়েছে। 



গৌরনদী থানায় তদন্তাধীন ২টি মানব পাচার মামলার আসামি জামাল মোল্লা ও তাঁর ২ শ্যালক বাবুল বেপারী, হাবুল বেপারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।



মামলার বাদি মেহেদী হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা বাংলাদেশ থেকে গত বছরের  ২৬ আগস্ট তাকে ইটালির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে প্রথমে সৌদি আরব নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে  মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখেন। তাকে ঠিকমত খাবার না দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর লিবিয়ার পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়। 



সেখানে সে (মেহেদী) প্রায় দেড় মাস কারাবন্দী ছিলেন । পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকের মোবাইল দিয়ে মেহেদী ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার করুন অবস্থার কথা জানান। 



এরপর মেহেদীর অভিভাবকগণ আসামি  জামাল, বাবুল বেপারী, হাবুল বেপারীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা  ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে মেহেদী লাশ হয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধারদেনা করে দাবিকৃত  ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলে গত ৪ জানুয়ারি মেহেদীকে দেশে ফেরত আনা হয়। 



মামলার বাদী মেহেদী অভিযোগ করে বলেন, দেশে ফিরে জানতে পারি আমার মত আরো ১৫ যুবক দেশে ফিরে এসেছে। তাদের অনেকের কাছ থেকে চক্রটি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।



লিবিয়ায় বন্দি গৌরনদীর একাধিক যুবকের অভিভাবকরা জানিয়েছেন-ঋণ, ধারদেনা ও জমি বিক্রি করে গৌরনদীর খাঞ্জাপুরের বাসিন্দা ইতালি প্রবাসী জাকির মোল্লা, বগুড়ার ইতালি প্রবাসী সাজু ও কুষ্টিয়ার লিটনের কাছে গৌরনদী উপজেলার ৬০ জন ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ১০ জন যুবক প্রত্যেকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে পা বাড়িয়েছিলেন। 



গত বছরের সেপ্টেম্বরে দালালরা তাদের ৪/৫ জন সহযোগীর মাধ্যমে লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ৩টি স্পিডবোটে সাগর পথে ইতালির উদ্দেশে পাঠালে সাগরপথেই ধরা পরে ৭০ জন। এরপর তাদের ঠাই হয় লিবিয়ার কারাগারে। 



পরবর্তীতে মানব পাচার চক্রের মূলহোতা জাকির মোল্লা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ৭০ যুবককে কারাগার থেকে বের করে দালালের জিম্মায় রাখেন। এরমধ্যে ১৫ যুবক মুক্তিপন দিয়ে দেশে ফিরে আসলেও অর্ধশতাধিক যুবক এখনো লিবিয়ায় দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। 



গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, থানায় দুইটি মানব পাচার মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ মামলার এজাহারভূক্ত তিন আসামি বর্তমানে বরিশাল কারাগারে এবং দুই আসামি বিদেশে রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?