শিরোনামঃ

কেশবপুরে  পানিতে ডুবে ৩ বছরের শিশু সাজিদের করুন মৃত্যু।



রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর।


যশোরের কেশবপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে সাজিদ (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আদরের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে সাজিদের পরিবার। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের আবু হাসানের একমাত্র ছেলে শিশু সাজিদ। মায়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে। ছোট্ট সাজিদের কাছে নানাবাড়ি ছিল আনন্দ আর আপনজনদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর একটি জায়গা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে বেড়াতে গিয়ে তার দিনগুলো আনন্দে কাটার কথা ছিল। কিন্তু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সব আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে দেয়।

ঘটনার দিন রোববার সকালে বাড়ির আশপাশে থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। মাত্র তিন বছরের শিশুর এমন করুণ পরিণতি যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যে শিশুর হাসি-খুশিতে বাড়ির পরিবেশ মুখর থাকার কথা, তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই বাড়িতেই নেমে আসে শোকের ভারী নীরবতা। সাজিদ ছিল আবু হাসানের একমাত্র সন্তান। একটি সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ছোট্ট শিশুটিকে ঘিরে তার পরিবারেরও নিশ্চয়ই ছিল নানা স্বপ্ন। তাকে বড় হতে দেখা, তার হাসি-খুশিতে ঘর ভরে ওঠা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার মধ্যেই ছিল পরিবারের আনন্দ। কিন্তু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই যেন সেই স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

সন্তান হারানোর বেদনা যে কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিশেষ করে যে সন্তান ছিল মা-বাবার একমাত্র অবলম্বন ও আনন্দের কেন্দ্র, তাকে এভাবে অকালে হারানো পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সাজিদের মৃত্যুর খবরে তার মা-বাবা, নানা বাড়ির স্বজন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় শিশুটিকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। যে বাড়িতে শিশুটির উপস্থিতিতে আনন্দমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন বিরাজ করছে বিষাদের ছায়া। সাজিদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি পরিচিতজনদের মধ্যেও শোকের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশের পুকুর, জলাশয় ও অন্যান্য পানির উৎসের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের পক্ষে বিপদের ঝুঁকি বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। তাই তাদের চলাফেরার সময় বড়দের সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাজিদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। মাত্র তিন বছরের সাজিদের জীবন এভাবেই অকালে থেমে গেল। তার পরিবারের কাছে এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। যে শিশুকে ঘিরে ছিল মা-বাবার অসংখ্য স্বপ্ন, সেই শিশুর আকস্মিক বিদায় পরিবারটির জীবনে রেখে গেল গভীর বেদনা। বিষ্ণুপুরের নানাবাড়িতে আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকার কথা ছিল সাজিদের বেড়াতে আসা; অথচ সেই সফরই পরিবারের জন্য হয়ে উঠল এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি। সাজিদের এই অকাল মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ছোট্ট শিশুটির এমন করুণ বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?