শিরোনামঃ

ইন্দুরকানীতে আ'লীগ নেতার বাড়িতে ৮ প্রকল্প অনুমোদন, বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা



ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ১নং পাড়েরহাট ইউনিয়নের একই বাড়িতে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক প্রকল্প অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১নং পাড়েরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল হালিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহাসীন হাওলাদারের নিজ বাড়িতে একই স্থানে মোট ৮টি প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। একই অর্থবছরে এসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত ২টি রাস্তা, ৩টি কবরস্থান, ১টি খালের ঘাট এবং ২টি গভীর নলকূপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পগুলো বাস্তবে একই স্থানে হলেও কাগজপত্রে ভিন্ন ভিন্ন নামে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহাসীন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি হওয়ায় বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত প্রকল্পগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হলেও এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো সুপারিশ নেই। অথচ নিকটবর্তী মধ্য উমেদপুর জামে মসজিদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করা হলেও সেটি অনুমোদন পায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার বলেন,

“আমাদের এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ এখনো বরাদ্দ পায়নি। অথচ ব্যক্তিগত বাড়িতে একের পর এক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ নেওয়া হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, “অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একই বাড়িতে নামে-বেনামে ৮টি ভুয়া প্রকল্পের অনুমোদন করানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সঠিকভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং এসব ভুয়া ও ভিত্তিহীন প্রকল্প বাতিল করে নতুন করে প্রকৃত জনস্বার্থের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে বলে আশা করি।”

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,

“উপজেলা ও জেলা থেকে ইন্দুরকানী উপজেলায় স্থানীয় চাহিদা ও জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে ৩০টি প্রকল্পের জন্য ৬৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় আমাদের উপজেলায় সর্বমোট ৫২টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রকল্প উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়িতে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তাই অভিযোগকৃত প্রকল্পগুলো দ্রুত তদন্তপূর্বক বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?