শিরোনামঃ

হিজলায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন


কোস্টগার্ডের অভিযানে ২১ জন গ্রেপ্তার, আটক ৬০ ড্রেজার।


হিজলা (বরিশাল) প্রতিনিধি:


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযানে ২০ থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৬০টি ড্রেজার আটক করা হয়। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দিনভর হিজলা উপজেলার সৈয়দ খালি সাওড়া মৌজার মেঘনা নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাইকোর্টের ২০২৫ সালের রিট পিটিশন নং ১৮৪৪৮ অনুযায়ী, হিজলা উপজেলার ৩৫ নং সৈয়দ খালি সাওড়া মৌজার ৩৮৭৮ থেকে ৩৮৮১ নং প্লটে বালু উত্তোলনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে। একই সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রায় দুইশত ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দিন-রাত বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ বিষয়ে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন,


“কোস্টগার্ড সদস্যরা কিছুক্ষণ আগে থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব। অভিযানস্থল পরিদর্শন শেষে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান,ঘটনাস্থল থেকে ২০ থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৬০টি ড্রেজার আটক করা হয়েছে। আমি নিজে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করিনি, তবে কোস্টগার্ডের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য পেয়েছি। আটককৃত  সকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০টি ড্রেজার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হতো। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় ৫ ই আগস্ট পরবর্তী বালু খেকো জনতার হাতে নিহত দূরস্য সন্ত্রাসী সেলিমের ঘনিষ্ঠ যুবলীগ নেতা আব্দুল বাসেত সহ কয়েকজন সর্বহারা নেতা রয়েছে এই ছোট্ট সাথে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘনফুট বালু বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হতো। এছাড়াও বালু বহনকারী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও একই এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ড্রেজার, বাল্কহেড ও নগদ ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা জব্দ করা হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। আরো বিস্তারিত থাকবে দ্বিতীয় পর্বে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?