গলাচিপায় ছেলেধরা আতঙ্ক, তিন দিনে পাঁচ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার দুই

          সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি ৷       পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় হঠাৎ করে ছেলেধরা আতঙ্ক জেঁকে বসেছে। গত তিন দিনে শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি। তাদের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে দুই জনকে। নিখোঁজ শিশুদের বেশির ভাগ মেয়ে। তাদের বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, চোখের সামনে মোবাইল ধরার পর শিশুদের আর কিছু মনে নেই। গত শনিবার (২১ জুন) গলাচিপা সদর ইউনিয়নের তিন জন ও রোববার (২২ জুন) গজালিয়া ইউনিয়নের দুই শিশু নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে গজালিয়ারব দুই কন্যা শিশু উদ্ধার হলেও এখনও তিন শিশু উদ্ধার হয়নি। 


গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান জানান, নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে দুই জন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই জনের বাড়ি গজালিয়া গ্রামে এবং নিখোঁজ  তিন শিশু সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের। তারা হলো- গলাচিপা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাফিয়া (১২), কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাবলা (৯) ও বৃষ্টি (১৩)।


একটি শিশুর স্বজনরা জানান, গজালিয়া গ্রামের মাহাতাব খানের মেয়ে উম্মে কুলসুম জিদনিকে রাস্তায় ইশারায় কাছে ডাকে বোরখা পড়া অপরিচিত এক নারী। সেদিন জিদনির সঙ্গে চাচাতো বোন আরিফাও ছিলো। ওই অপরিচিত নারী ডেকে এনে তাদের বলে, তোমার ফুফু অসুস্থ আমার সঙ্গে সেখানে যেতে হবে। যেতে না চাইলে মোবাইলে জিদনির বাড়িতে কথা বলতে বলে মুখের সামনে ফোন সেটটি তুলে ধরে। এর পরই কেমন করে কী হয়ে যায় জানে না শিশুরা। পরে স্বজনরা তাদের পটুয়াখালী-ঢাকা বাস টার্মিনাল থেকে উদ্ধার করে।  এক সঙ্গে দুই বোন হারিয়ে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শিশু দুটি উদ্ধার হলেও আতঙ্কিত উপজেলার গজালিয়া ও সদর ইউনিয়নের মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, গত রোববার বিকেলে গজালিয়া সরকারি  প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক জান্নাতুল নুরন্নাহারের বাসায় মধ্যবয়সী এক নারী আসেন। তিনি নিজেকে একজন ধার্মিক বলে পরিচয় দেন। তার এ কথা শুনে শিক্ষক জান্নাতের স্বামী মো. জামাল হাওলাদার অপরিচিত ওই নারীকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন । এর পরেও যেতে না চাইলে অনেকটা জোর করেই ওই তাকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এর ঠিক একদিন পরই গজালিয়ার চর চন্দ্রাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জিদানি ও আরিফাকে ফুফু অসুস্থতার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যেতে চায়।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?