ছুটি নেই,তবুও বাড়ি ফিরছে খুবির আদিবাসী শিক্ষার্থীরা


খুবি প্রতিনিধি: সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি 


আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈশাবি উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়(খুবি) কোন ছুটি রাখা হয়নি।তবুও পরিবারের সাথে উৎসব পালন করতে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিল (ফুল বিজু/বৈসুক), ১৩ এপ্রিল(মূল বিজু/সাংগ্রাই) একাডেমিক কার্যক্রম চলবে।যদিও এই দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটির তালিকায় আছে।তবে ১৪ এপ্রিল(জলকেলী) নববর্ষ উপলক্ষে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। 



খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান উৎসব বৈশাবি সহ অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে একাডেমিক কার্যক্রম চলমান থাকায় এসব দিনগুলোতে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরলেও বেশিরভাগ ক্যাম্পাসেই থাকে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এই উৎসব পালনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বাড়িতে ফিরতে না পারা এসব শিক্ষার্থীদের জন্য  "আদিবাসী ছাত্র  কল্যাণ সমিতির"উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হল গুলোতে  মাঝেমধ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে তাদের সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা করা হয়। এখন যদি শিক্ষার্থীরা তাদের সংস্কৃতি চর্চা না করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের এসব সাংস্কৃতিক সংকটে পড়বে। 


ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সমুদ্রা চাকমা ঢাকা মেইল পত্রিকা কে বলেন,"আমাদের সাংস্কৃতিগুলো চর্চা করতে না পারায় এগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি এগুলো পালন করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে অন্যদের শিখাবো কিভাবে? "



বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবর রহমান ঢাকা মেইল পত্রিকাকে  বলেন,"সিন্ডিকেটের পাস না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের ছুটির তালিকায় বৈশাখী উৎসব রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডারের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেয় না। ফলে ১২ ও ১৩ এ এপ্রিল  যথারীতি একাডেমিক চলমান থাকবে।" 


উল্লেখ্য, গত বছর "আদিবাসী ছাত্র কল্যান সমিতির" পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার বারাবর বৈশাবি উপলক্ষে ক্লাস টেস্ট বন্ধ রাখার জন্য একটি আবেদন করা হয়েছিল।খুবি তৎকালীন উপাচার্যও এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলেও প্রত্যেক বিভাগের ক্লাস টেস্ট বাতিল করা সম্ভব না হওয়ায় সে বছর বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে উৎসব পালন করা সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?