শিরোনামঃ

ববিতে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর


ওয়াহিদ-উন-নবী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর ফটকের সামনে একটি চায়ের দোকানে ভাঙচুর করা হয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আনন্দ বাজারে রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে রসায়ন বিভাগের ৪–৫ জন শিক্ষার্থী সিফাতকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি দিয়ে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টার দিকে একসঙ্গে বসলে আলোচনার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গতকাল রাতে আনন্দ বাজারে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণও নেই।’

তিনি আরও বলেন,

‘সকালে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন আমাকে ডেকে নিয়ে শহীদ মিনারের পেছনে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করে। পরে কয়েকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন। সমাধানের জন্য বসার পরও আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমি আমার ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগটি সমাধানের লক্ষ্যে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং পাশে থাকা একটি চায়ের দোকান ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় উভয় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নাছিমা বেগম নামের এক নারী দোকানদারের দোকানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নাছিমা বেগম বলেন,

‘কয়েকদিন আগেই আমার দোকানে চুরি হয়েছে। আজ আবার দোকান ভাঙচুর করা হলো। আমি গরিব মানুষ, আমার দোকানটা যেন ঠিক করে দেওয়া হয়—এই দাবি জানাচ্ছি।’

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বলেন,

‘নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ তুলে রসায়ন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতকে মারধর করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের হুমকি দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়।’

দোকান ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন,

‘রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই দোকান ভাঙচুর করে এবং লাঠি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন,

‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসেছিলাম। কিন্তু একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ ও আজকের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমরাও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন,

‘ঘটনাস্থলে এসে আমরা উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছি। সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন,

‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গুরুতর কেউ আহত হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?