বাঁশের বেড়া দিয়ে তেলের পাম্প অবরুদ্ধ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল আরিফ ফিলিং ষ্টেশনের মালিকানা ও জমি নিয়ে স্থানীয় দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ চরম আকার ধারন করেছে। এনিয়ে যেকোন সময় দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে একপক্ষে রয়েছেন স্থানীয় হারুন অর রশিদ ও তার মেয়ে পপি আক্তার এবং অপরপক্ষে রয়েছেন শীর্ষ মাদক কারবারী হীরা মাঝি।
দুইপক্ষের এ বিরোধ নিষ্পত্তির তারা উভয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত থেকে জমির ওপর স্থিতিবস্থা জারি করা হয়েছে। এরপরও পাম্পের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো উসকে দেওয়া হয়েছে। পাম্পের সামনে বেড়া থাকায় কোন যানবাহন পাম্পে ঢুকতে পারছেনা। ফলে তেল নিতে আসা যানবাহনগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।
বুধবার ( ১ অক্টোবর) দুপুরে কটকস্থল গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বেপারীর অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন কটকস্থল এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর আরিফ ফিলিং ষ্টেশন নামের একটি তেলের পাম্প নির্মান করে ব্যবসা শুরু করি। এরইমধ্যে পাম্পের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সীর। একপর্যায়ে ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পাম্পের অর্ধেকাংশ ষ্ট্যাম্পে লিখে নেন। তিনি (ফরহাদ) চার বছর আমাকে হিসাব-নিকাশ না দিয়ে একক ভাবে পাম্প পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে জাল-জালিয়াতি করে নেওয়া তার অংশ শীর্ষ মাদক কারবারী হীরা মাঝীর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই হীরা মাঝি আমার আত্মীয়-স্বজনদের ব্যবহার করে পাম্প দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রয়ারি মাসে আমার সৎ ভাই সরিফুর রহমানকে বিবাদী করে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছি। সেই মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। আদালত থেকে জমির ওপর স্থিতিবস্থা জারি করা হয়েছে। পাম্প কিংবা জমির কোন অংশই হীরা মাঝি আমার মধ্যে পাবে না। এরপরও সে (হীরা) আমার পাম্প ও জমি দখলের জন্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাম্পের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে পাম্প অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
তবে হারুন অর রশিদের অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ মুন্সী বলেন, জাল-জালিয়াতির প্রশ্নই ওঠেনা। সে (হারুন) টাকার জন্য পাম্প চালাতে পারেনা বলে নিজে আমার অফিসে এসে আমাকে ব্যবসায়িক অংশীদার বানিয়েছিলো। যে কারনে ওই পাম্পে আমি টাকা ইনভেস্ট করি। আমি পাম্পের বৈধ অংশীদার ছিলাম। আমার অংশ বিক্রির পূর্বে হিসাব-নিকাশ সব বুঝিয়ে দিয়েছি। সুবিধা নেওয়ার জন্য এতোদিন পরে এ অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
হারুন অর রশিদের মেয়ে পপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মৃত সামসুদ্দিন মোল্লার পাম্প সংলগ্ন ২৯ শতক জমির মধ্যে থেকে সাড়ে ৯ শতক জমি ২০১৫ সালে তার (সামসুদ্দিন) মেয়ে জাহানারা বেগমের কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলমূলে ক্রয় করে ভোগদখলে ছিলাম। ওই জমির রেকর্ড সামসুদ্দিনের নামে হওয়ায় ২০১৬ সালে ল্যান্ড সার্ভে মামলা করি।
২০১৮ সালে সামসুদ্দিনের ছেলে সোবাহান মোল্লার কাছ থেকে একই দাগের পুরো জমি (২৯ শতক) ক্রয় করে দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ মাদক কারবারী হীরা মাঝি। অর্থাৎ সামসুদ্দিনের মেয়ের কাছ থেকে আমার ক্রয়কৃত সাড়ে নয় শতক জমিও তার (সামসুদ্দিন) ছেলের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়। এরপর থেকে আমার দখলে থাকা ওই সাড়ে নয় শতক জমি জোরপূর্বক দখলে নেয় মাদক কারবারী হীরা। এরইমধ্যে ২০২২ সালে আদালতের নির্দেশনায় আমার নামে নামজারি হয়। অতি সম্প্রীতি ওই নামজারির বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আপীল করেছেন বিবাদী।
অভিযোগ করে পপি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ আমার সঙ্গে। আমার বাবার পাম্পের জমি এবং মালিকা নিয়ে হীরা মাঝির সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। এরপরও সে (হীরা মাঝি) তার পালিত মাদক সন্ত্রাসী দিয়ে পাম্প ও পাম্পের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ পাম্পের সামনে সড়ক ও জনপদের জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে রেখেছে। পাম্পের সামনে বাঁশের বেড়া দেওয়ার ফলে কোন গাড়ি পাম্পে ঢুকতে পারছেনা। পাম্পের সামনে থেকে বাঁশের বেড়া খুলে দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে জানতে হীরা মাঝিকে ফোন দেওয়া হলেও তার স্ত্রী ফোন ধরায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হীরা মাঝির ভাই মানিক মাঝি জানিয়েছেন, পাম্পের বৈধ অংশীদার হওয়া সত্বেও আমাদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা। পাম্প পরিচালনায় আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হলেও টাকা ফেরত দিচ্ছেনা হারুন অর রশিদ গংরা। এমনকি পাম্পের মধ্যে আমার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি রয়েছে। সেখানে আমার ভাইকে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। যে কারনে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত থেকে পপির নামের রেকর্ড স্থগিত করা হয়েছে। আদালত থেকে স্থিতিবস্থা জারির পরও পাম্পের সামনে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে কেন জানতে চাইলে তিনি (মানিক) ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালত থেকে পাঠানো স্থিতিবস্থার কপি হাতে পেয়েছি। উভয়কে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাম্পের সামনে থেকে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেওয়ার জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।