শিরোনামঃ

বামনার রুহিতার চরে শান্তি রক্ষায় আইনের প্রয়োগ জরুরি



স্টাফ রিপোর্টারঃ

বরগুনার বামনা উপজেলার চর্চা ম্যাপভুক্ত রুহিতার চর দখল নিয়ে দুই উপজেলার কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ি, বলইবুনিয়া ও তাফালবাড়িয়া এলাকার কিছু কৃষক জোরপূর্বক রুহিতার চরের শতাধিক একর জমি দখল করে চাষাবাদ শুরু করেছে।


অভিযোগ রয়েছে, বেতাগীর কৃষকরা সেখানে মাটি কেটে খাল তৈরি, নতুন ঘর নির্মাণ এবং সৌর বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে। এমনকি তারা বামনার কৃষকদের পূর্বে লাগানো বীজ তুলে ট্রাক্টর দিয়ে ধান রোপণ করছে ও নতুন গাছ লাগাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ আট দশক ধরে বামনার কৃষকদের চাষাবাদের আওতায় থাকা এ চর এখন তাদের দখলে চলে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


রুহিতার চরে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইনের শাসন মান্যকারী বামনার কৃষকরা আর কতদিন অপেক্ষা করবে তাদের জমি ফিরে পাওয়ার জন্য?” অপর এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি কাগজপত্র ছাড়াই বেতাগীর কৃষকরা ঘর তোলে, ধান লাগায়, এমনকি খাল কেটে সীমানা বাড়াচ্ছে। অথচ বামনার কৃষকরা নদীর পাড়ে বসে চোখের জলে তা দেখছে।”


এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বলেন, “রুহিতার চরে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটার আগেই জেলা প্রশাসনের উচিত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বরাদ্দপ্রাপ্ত কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”


অভিজ্ঞ মহলের মতে, জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রুহিতার চরসহ বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা সবগুলো চরে অবিলম্বে চাষাবাদ ও অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি বা অন্য কোনো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান জানান, “চরের জটিলতা নিরসনে আমি একাধিকবার বৈঠক করেছি। গত ৭ আগস্ট স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কৃষকরা আমাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমি তা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি। এখন এ বিষয়ে আমার হাতে আর কিছু নেই।”


বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম বলেন, “আমরা রুহিতার চর নিয়ে কাজ করছি। যদি কোনো পক্ষ অরাজকতা সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?