বালু ফেলা নিয়ে বিরোধ: ববির ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে মারধর ও হুমকির অভিযোগ


ওয়াহিদ-উন-নবী,  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে বালু ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত আশরাফুল হক মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ববি শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর রূপাতলীর মুক্তিযোদ্ধা সড়কে (দপদপিয়া সেতু টোল সংলগ্ন)। ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মুদি দোকানের মালিক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশরাফুল হক মোল্লা আনোয়ার হোসেনকে তার দোকান থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। সেখানে বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় দোকান ভাঙচুর ও তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এলাকার বাসিন্দা হান্নান বলেন,

“আমার ভাইয়ের একটি প্লটে বালু ভরাটের বিষয়ে আনোয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। পরে আশরাফুল মোল্লা নিজেই বালু ভরাট করে দেবে বলে জানায়। এরপর তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।”

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন,

“রূপাতলি এলাকায় কয়েকটি জমিতে বালু ভরাটের জন্য আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আশরাফুল মোল্লা আমাকে সেখানে কাজ করতে বাধা দেয় এবং বলে সে নিজেই বালু ফেলবে। মঙ্গলবার রাতে সে আমার দোকানে এসে বাইরে ডেকে নেয়। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে ধাক্কা দেয় এবং মারধর করে। পরে আবার কাজ করলে দোকান ভাঙচুর ও মারপিটের হুমকি দেয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই এলাকায় এক নারী দোকানির কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল হক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

“আনোয়ার আমাকে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে গালি দিয়ে কথা বলায় আমি তাকে বাধা দিই। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধাক্কা দিয়েছি, এটা আমার ভুল। তবে মারধর বা প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সঠিক নয়।”

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?