শিরোনামঃ

আশার আলো দেখাচ্ছে  ইউএনও’র মাদক বিরোধী  কর্মসূচী


*আরো দুই মাদক ডিলারের আত্মসমর্পন

মো. হাসান মাহমুদ:

 মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত বরিশালের গৌরনদীতে একটি মাদক বিরোধী কর্মসূচী মাদকের বিস্তাররোধে আশার আলো দেখাচ্ছে। এরইমধ্যে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের শীর্ষ ৬জন মাদক কারবারি প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষনা দিয়েছেন। 

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দুইজন শীর্ষ মাদক কারবারী আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীরা হলো-উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের ওহাব আলী বেপারীর ছেলে মো. ইউসুফ বেপারী ও একই এলাকার মো. হামেদ সরদারের ছেলে মো. জহির সরদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের অভায়রন্য গড়ে তুলেছিলো মাদক কারবারীরা। মাদকের ভয়াল থাবায় এলাকার তরুন-কিশোররা মাদকের দিকে ঝুকছিলো। মাদকের ভয়াবহতার এই আবহে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীমের পৃষ্ঠপোষকতায় “খাঞ্জাপুর মাদক নির্মূল পরিষদ” গঠন করা হয়। এরপরই একদল তরুন-যুবক খাঞ্জাপুরকে মাদকমুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন। তারা প্রথমে এলাকায় সভা-সেমিনার করে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করেন। এরপরই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পনের সুযোগ তৈরি হয়।

খাঞ্জাপুর মাদক নির্মূল পরিষদের কার্যকরী সদস্য ও ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মাদক কারবারীদের আত্মসমর্পন করিয়ে আমাদের কার্যক্রম থেমে থাকবেনা। আমাদের টিমের দুই শতাধিক সদস্য প্রতিটা মাদক কারবারীকে মনিটরিং করবে। নতুন ভাবে কেউ মাদকে জড়িয়ে পরছে কিনা সেটাও মনিটরিং করা হবে। আমরা আমাদের ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে চাই। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, শুধু মামলা-গ্রেপ্তার করে মাদকের বিস্তাররোধ করা সম্ভব হবেনা। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কোন মাদক কারবারি যদি আলোর পথে ফিরে আসতে চায়, তাকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিৎ বলে মনে করছি। সেই ধারাবাহিকতায় খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের একদল ব্যতিক্রমধর্মী স্বেচ্ছাসেবক তাদের ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য আমার কাছে সহায়তা চেয়েছে। কাজে হাত দিয়েছি। এরইমধ্যে ওই ইউনিয়নের শীর্ষ ৬ জন মাদক কারবারি আত্মসমর্পন করেছে। তারা আর মাদক বিক্রি করবেনা বলে অঙ্গীকার করেছে। তাদেরকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা আইনশৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মনিটরিংয়ের মধ্যে রয়েছে। আত্মসমর্পনের পর থেকে তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। 

এবিষয়ে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দিন জানিয়েছেন, আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষনিক মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হবেনা। তবে আত্মসমর্পনের সুযোগ নিয়ে কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পরলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?