শিরোনামঃ

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ হিলভিউ হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল: 


বিজ্ঞ আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থার আদেশ, নগর কর্তৃপক্ষের নীরবতা আর স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘশ্বাস, এসব উপেক্ষা করেই নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বগুড়া রোডের গফুর সড়ক এলাকায় দাপটের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ‘হিলভিউ হাউজিং লিমিটেড’।


আদালতের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সংস্থাটি গ্রহণ করেছে এক অভিনব কৌশল। পুলিশ এলেই চটজলদি বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ, আর পুলিশ সরলেই পুনরায় পুরোদমে চলে ঢালাই ও ইট-পাথরের কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এবং প্রতিবেশীদের বসতবাড়ির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে বীরদর্পণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।


বরিশাল সদরের বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের (দেওয়ানী মামলা নং- ৩০৩/২০২৬) স্থিতাবস্থার আদেশ বাস্তবায়নে কোতোয়ালী মডেল থানা এবং বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎপরতা থাকলেও, চালকের ভূমিকায় থাকা হিলভিউ হাউজিংয়ের সাইট প্রকৌশলী নাঈম উদ্ভাবন করেছেন পুলিশ ফাঁকির অভিনব কৌশল।


নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, নাঈম স্যার রাস্তার মোড়ে একজন লোক দাঁড় করিয়ে রাখেন। পুলিশ আসতে দেখলেই তিনি স্যারকে ফোন দেন, আর সাথে সাথেই আমাদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই আবার কাজ শুরু করি। আমরা তো পেটের দায়ে কাজ করি; নাঈম স্যারের নির্দেশ না শুনলে কাল থেকে হয়তো আর কাজেই আসতে পারব না।


বগুড়া আলেকান্দা মৌজার এস.এ ২৩৭১ নং খতিয়ানের ২২৬৫ নং দাগের ১৬.৫০ শতাংশ ভূমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন তুলতে গিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রধান পানি নিষ্কাশনের ড্রেনটি চরমভাবে সংকুচিত করা হয়েছে। উপরন্তু ড্রেনের ওপর সরাসরি নির্মাণসামগ্রী ও বালু-পাথর স্তূপ করে রাখায় পানি প্রবাহ প্রায় পুরোটাই বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


কোতোয়ালী মডেল থানার স্মারক নং-২১৬ (তারিখ: ১১/১০/২০২৬খ্রিঃ) মূলে মাহমুদুল হক ও মোহাম্মদ সহিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আদালতের নির্দেশ মোতাবেক স্ব-স্ব ভোগদখল অনুযায়ী ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নোটিশ জারি করা হয়।


এ বিষয়ে বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মাহফুজুর হাসান বলেন, আদালতের কাজ বন্ধের সংক্রান্ত নির্দেশনার কপি হাতে পাওয়ার পরপরই আমি নিজে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছি। বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ দেখতে পেয়েছি।


তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশের এই সাময়িক পরিদর্শনের সুযোগ নিয়েই মূলত হিলভিউ হাউজিং তাদের আড়ালে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ‘খেলা’ খেলছে।


আইনের তোয়াক্কা না করে এভাবে একের পর এক অনিয়ম ও প্রতিবেশীদের বাড়িঘরের ক্ষতিসাধন করা হলেও নগর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও রহস্যজনকভাবে তারা নিশ্চুপ।


আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নগর কর্তৃপক্ষের এমন ঢিলেঢালা ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বগুড়া রোডের বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে আদালতের আদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং আইন অমান্যকারী হিলভিউ হাউজিং ও তাদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?